দিলীপের স্পষ্ট বক্তব্য, দলকে শক্তিশালী করতে হলে পুরনো যোদ্ধাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর কথায়, অটলের সেই উক্তি আজও ‘সময়োপযোগী’।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 November 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় তাঁর মুখ খুললেই দলে-দলের বাইরে ঝড় উঠত। নিজের দলের নেতারা থেকে বিরোধী—কারও রেহাই ছিল না যার মন্তব্য থেকে, সেই দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ঝরালেন। আর তাতেই ফের তাপমাত্রা বাড়ল রাজ্য বিজেপির ভেতরকার ‘আদি-নব্য’ টানাপোড়েনে (BJP, old-new debate)।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর (Atal Bihari Vajpayee) একটি উক্তি তুলে ধরে দিলীপের বার্তা, “পুরনো কর্মীকে ভাঙতে দিও না, প্রয়োজনে দশ জন নতুন আলাদা হয়ে যাক”। সঙ্গে আরও যোগ—“খুব দ্রুত নতুন কার্যকর্তাদের উপর ভরসা করা উচিত নয়।” রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই পোস্ট নিছক অটলের স্মরণ নয়, দলের ভিতরকার ক্ষোভেরই প্রকাশ।
দিলীপের স্পষ্ট বক্তব্য, দলকে শক্তিশালী করতে হলে পুরনো যোদ্ধাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর কথায়, অটলের সেই উক্তি আজও ‘সময়োপযোগী’।
শুধু পোস্টেই নিজের বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেননি, এদিন খড়গপুরে দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়েও দলের 'পুরনো কাসুন্দি' টেনে এনেছেন ঘোষবাবু। বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। খোলাখুলি বললেন,“পার্টি দু’বার আমার ইচ্ছায় টিকিট দিয়েছে, আর এক বার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দিয়েছে। আমি কাউকে কোনও দিন টিকিট চাইনি। পার্টি বললে লড়েছি।” নিজেকে আবারও পরিচয় করালেন “সাধারণ কর্মী” হিসেবেই।
লোকসভা ভোটে বর্ধমান–দুর্গাপুরে কীর্তি আজাদের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই দিলীপের দলে অবস্থান দুর্বল হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। একই সঙ্গে তাঁর পুরনো ‘গড়’ মেদিনীপুরে পরাজিত অগ্নিমিত্রা পাল—যিনি শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ। ফল প্রকাশের পর থেকেই দিলীপের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছিল। এখনো যে মন থেকে অভিমান কাটেনি, তা তাঁর এদিনের মন্তব্যে ফের স্পষ্ট হল বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের অভিমত, এই পোস্টে অটলকে টেনে দিলীপ যে বার্তা দিলেন, তা সরাসরি দলের নেতৃত্বকেই উদ্দেশ করে। রাজ্য ভোটের আগে বিজেপির অন্দরের ক্ষোভ আরও বাড়বে কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।