সূত্রের খবর, এক মহিলা তার বাচ্চাকে নিয়ে রেল লাইন পার হচ্ছিলেন। আচমকাই শিশুটি তিন নম্বর রেল লাইনে পরে যায়। মহিলা তাঁর সন্তানকে বাঁচাতে যায়। তখনই তিন নম্বর রেল লাইনে চলে আসে একটি মেল ট্রেন।

শেষ আপডেট: 28 September 2025 10:50
পঞ্চমীর রাতে ট্রেনের ধাক্কায় একসঙ্গে মৃত্যু হল তিনজনের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শ্যামনগর রেল স্টেশনে। ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তেতে ওঠে স্টেশন চত্বর।
সূত্রের খবর, এক মহিলা তার বাচ্চাকে নিয়ে রেল লাইন পার হচ্ছিলেন। আচমকাই শিশুটি তিন নম্বর রেল লাইনে পরে যায়। মহিলা তাঁর সন্তানকে বাঁচাতে যায়। তখনই তিন নম্বর রেল লাইনে চলে আসে একটি মেল ট্রেন। বিপদ দেখে লাইনের পাশে থাকা এক ফল বিক্রেতা তাঁদের বাঁচাতে ছুটে যায়। গৌড় এক্সপ্রেসে তিনজনকে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের ধাক্কায় তিন দিকে ছিটকে পড়ে তিনজন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মা ও শিশুর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গেটম্যান লেবেল ক্রসিং এর গেট খুলে দেননি। ফলে কোনও টোটো সময় মতো রেল লাইনের উপর আসতে পারে নি। ফলে ফল বিক্রেতার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাকে কোলে করে অনেকটা নিয়ে গিয়ে গাড়িতে করে হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এই গাফিলতির জন্য মহিলা ও শিশুটির পাশাপাশি ওই ফল বিক্রেতারও মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা দীর্ঘক্ষণ শ্যামনগর রেল স্টেশন অবরোধ করে রাখে। তাঁদের দাবি, এই লেবেল ক্রসিংয়ের গেট একবার বন্ধ হলে সেটি আর খোলা হয় না। দীর্ঘক্ষণ মানুষকে দু’পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর সেই জন্য মানুষ অধৈর্য হয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে রেললাইন পার হতে যায়।
তাঁরা বলেন, ‘‘বারবার এই বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি আমরা। কিন্তু রেল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বিষয়টা নিয়ে সতর্ক হয় নি। এরই খেসারত দিল তিনটি প্রাণ।’’ দুর্ঘটনার জেরে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে লেভেল ক্রসিং এর এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।