অ্যাক্সিয়ম ৪ বা Ax-4 মিশনের অংশ হিসেবে, শুভাংশু এবং তাঁর তিন সহযাত্রী স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে ফিরবেন পৃথিবীতে। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় দুপুর ৩টে নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে তাঁদের জলে নামার কথা।

শুভাংশু শুক্লা
শেষ আপডেট: 14 July 2025 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮ দিন মহাকাশে কাটিয়ে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (ISS) থেকে ‘আনডক’ করবেন ভারতের প্রথম আইএসএস অভিযাত্রী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। এই মিশনের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছল ভারতের মহাকাশ অভিযান।
অ্যাক্সিয়ম ৪ বা Ax-4 মিশনের অংশ হিসেবে, শুভাংশু এবং তাঁর তিন সহযাত্রী স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে ফিরবেন পৃথিবীতে। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় দুপুর ৩টে নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে তাঁদের জলে নামার কথা।
এই ১৮ দিনের অভিযানে এএক্স ৪ দলের বিজ্ঞানীরা ৬০টিরও বেশি উন্নত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। জানা যাচ্ছে, জীববিদ্যা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকরণ বিজ্ঞান এবং মানব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা গবেষণা হয়েছে এই সময়।
শুভাংশু শুক্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ‘স্প্রাউটস প্রজেক্ট’। এতে দেখা হয়েছে, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কীভাবে বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং তা পৃথিবীতে ফিরে কেমন আচরণ করে। বহু প্রজন্ম ধরে সেই বীজ পরীক্ষা করে দেখা হবে জিনগত ও পুষ্টিগত পরিবর্তন, যার প্রভাব পড়তে পারে মহাকাশ কৃষির ভবিষ্যতে।
তিনি মহাকাশে শ্যাওলা বা মাইক্রোঅ্যালগি নিয়ে গবেষণা করেছেন বলে জানা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মিশনে খাদ্য, অক্সিজেন ও জ্বালানির উৎস হতে পারে। মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে গ্লুকোজ মনিটরের ব্যবহার নিয়েও গবেষণা করেছেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন, যাতে ভবিষ্যতের স্পেস মিশনে স্বাস্থ্যগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে অভিযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
এই সময় শুভাংশুর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইসরোর প্রধান ভি নারায়ণনের সঙ্গেও কথা হয় তাঁর। গগনযান প্রকল্প ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
১৩ জুলাই, আইএসএস ছাড়ার আগে এক আবেগঘন বার্তায় শুভাংশু বলেন, 'এই মিশন শুধু আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটা প্রমাণ করে, বিশ্ববাসী একসঙ্গে কী করতে পারে। আমি চাই, ভারতের এবং বিশ্বের তরুণ প্রজন্ম এই অভিযান দেখে নতুন স্বপ্ন দেখুক।'
প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী রাকেশ শর্মার স্মৃতি মনে করে শুভাংশু বলেন, 'আজকের ভারতকে মহাকাশ থেকে দেখে মনে হয়, নির্ভীক, আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী দেশ। ভারত আজও ‘সারে জাঁহাঁ সে আচ্ছা’।'
আনডকিংয়ের পরে প্রায় ২১ ঘণ্টার যাত্রা শেষে তাঁরা পৃথিবীতে ফিরবেন। তারপর শুভাংশুকে রাখা হবে সাত দিনের এক রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামে, যাতে পৃথিবীর অভিকর্ষে শরীর ফের স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।
তাঁর পরিবার ইতিমধ্যেই তাঁর প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেওয়া হবে সংবর্ধনা, রয়েছে আরও নানা পরিকল্পনা।
এই এএক্স ৪ মিশনের মাধ্যমে শুভাংশু কেবল ইতিহাস গড়েননি, ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের ভবিষ্যতের দিশাও দেখিয়ে দিলেন।