মিশনটির শেষ ধাপে, তাঁরা ড্রাগন ক্যাপসুলে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন (undock) হয়ে পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দেবেন।

শেষ আপডেট: 11 July 2025 07:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবীতে ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা ও আরও তিন সহযাত্রী, জানাল নাসা। তাঁরা সকলেই অ্যাক্সিয়ম-৪ (Axiom-4) মিশনের অংশ হিসেবে মহাকাশে গিয়েছিলেন।
নাসার কমার্শিয়াল ক্রু প্রোগ্রামের ম্যানেজার স্টিভ স্টিচ এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন, “আমরা Axiom-4 মিশনের গতিবিধি প্রতিমুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই মিশনের আনডক করার তারিখ ১৪ জুলাই।” অর্থাৎ ১৪ জুলাই পৃথিবীর মাটিতে পা রাখবেন শুভাংশু-সহ আরও তিন মহাকাশচারী পেগি হুইটসন, স্লাভোস উজনানস্কি-উইসনিয়েস্কি এবং টিবর কাপু।
অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনে ড্রাগন মহাকাশযান ২৫ জুন, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু করে। প্রায় ২৮ ঘণ্টা যাত্রা শেষে, ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছয় এবং সফলভাবে ডক করে।
নাসা জানিয়েছে, মহাকাশে প্রায় ১৮ দিন কাটিয়ে এবার পৃথিবীতে ফেরার সময় এসেছে এই চার নভোচারীর। মিশনটির শেষ ধাপে, তাঁরা ড্রাগন ক্যাপসুলে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন (undock) হয়ে পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দেবেন।
এই সময়ের মধ্যে মহাকাশচারীরা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছেন প্রায় ২৩০ বার। কক্ষপথে অবস্থানকালে প্রায় ২৫০ মাইল উচ্চতা থেকে তাঁরা পৃথিবীর অসাধারণ দৃশ্য বন্দি করেছেন ক্যামেরায়, কাটিয়েছেন অবসর সময়। আবার দূর মহাকাশ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মন দিয়েছেন বৈজ্ঞানিক গবেষণায়।
এই অভিযানই অ্যাক্সিয়ম স্পেসের তরফে কোনও বেসরকারি মহাকাশ মিশনে সর্বাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা— সংখ্যায় ৬০টিরও বেশি। বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স, নিউরোসায়েন্স, কৃষি, স্পেস টেকনোলজি, প্রযুক্তির নানা শাখায় এই গবেষণাগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রা এবং পৃথিবীতে চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা বা মানবদেহের কর্মক্ষমতা নিয়ে তীক্ষ্ণ নজরদারির মতো গবেষণাগুলি এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।