আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে (ISS) দুই সপ্তাহ কাটিয়ে রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা ভারতের নভোচর (Indian Astronaut) শুভাংশু শুক্লার (Shubhnagshu Shukla)।

শুভাংশু শুক্লা, ছবি তে বাঁ দিকে
শেষ আপডেট: 10 July 2025 21:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৩০ বার সূর্যোদয় দেখেছেন তিনি। মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীকে পাক দিয়েছেন প্রায় ৯৬.৫ লক্ষ কিলোমিটার পথ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে (ISS) দুই সপ্তাহ কাটিয়ে রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা ভারতের নভোচর (Indian Astronaut) শুভাংশু শুক্লার (Shubhnagshu Shukla)।
অ্যাক্সিওম ৪ মিশনের অংশ হিসেবে শুভাংশুর সঙ্গী আরও তিন মহাকাশচারী— পেগি হুইটসন, স্লাভোস উজনানস্কি-উইসনিয়েস্কি এবং টিবর কাপু। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা অ্যাক্সিয়ম স্পেস জানিয়েছে, তাদের ড্রাগন মহাকাশযান গত ২৫ জুন ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর আইএসএস-এর সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত হয়।
এই সময়ের মধ্যে মহাকাশচারীরা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছেন প্রায় ২৩০ বার। কক্ষপথে অবস্থানকালে প্রায় ২৫০ মাইল উচ্চতা থেকে তাঁরা পৃথিবীর অসাধারণ দৃশ্য বন্দি করেছেন ক্যামেরায়, কাটিয়েছেন অবসর সময়। আবার দূর মহাকাশ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মন দিয়েছেন বৈজ্ঞানিক গবেষণায়।
বস্তুত, এই অভিযানই অ্যাক্সিয়ম স্পেসের তরফে কোনও বেসরকারি মহাকাশ মিশনে সর্বাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা— সংখ্যায় ৬০টিরও বেশি। বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স, নিউরোসায়েন্স, কৃষি, স্পেস টেকনোলজি, প্রযুক্তির নানা শাখায় এই গবেষণাগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রা এবং পৃথিবীতে চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা বা মানবদেহের কর্মক্ষমতা নিয়ে তীক্ষ্ণ নজরদারির মতো গবেষণাগুলি এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মিশনের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অ্যাক্সিয়ম স্পেস জানায়, “প্রতিটি টেস্ট টিউব, প্রতিটি পর্যবেক্ষণ আর প্রতিটি তথ্য আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে দেয় সেই স্বপ্নের দিকে, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কক্ষপথে বসবাস ও কাজ করবে। অবশেষে হয়তো পৃথিবীর বাইরেও।”