অভিযানে সঙ্গী শুধু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আর লক্ষ্য শুধু গবেষণা নয়, মহাকাশে থাকছে এক বিশেষ আকর্ষণ ‘জয়’।

শেষ আপডেট: 25 June 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশ এখন অনেকটাই মায়াভরা। নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যখন আজ মহাকাশ পাড়ি দিল অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশন। সঙ্গে শুধু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আর লক্ষ্য শুধু গবেষণা নয়, মহাকাশে থাকছে এক বিশেষ আকর্ষণ ‘জয়’।
একেবারে শব্দের আক্ষরিক অর্থেই আনন্দের প্রতীক জয়, একটি পাঁচ ইঞ্চির তুলতুলে শিশু রাজহাঁস।
এই ছোট্ট হাঁসটিই হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ অভিযানের জিরো-গ্র্যাভিটি ইন্ডিকেটর। তবে এই রাজহাঁসের ডানায় ভর করেই ছড়িয়ে পড়ছে এক গভীর বার্তা। জয় এই মিশনের আবেগের হৃদস্পন্দন, যা বহন করছে সংস্কৃতির মেলবন্ধন আর শিশুসুলভ বিস্ময়ের গল্প।
কেন রাজহাঁস?
মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লার কাছে এই রাজহাঁসের তাৎপর্য একেবারেই গভীর। ভারতীয় পুরাণে রাজহাঁস হল বিদ্যার দেবী সরস্বতীর বাহন। এই পাখির রয়েছে এক পৌরাণিক ক্ষমতা—দুধ আর জলকে আলাদা করতে পারে, যা প্রতীক জ্ঞান, বিশুদ্ধতা ও বিবেচনার। এমন এক মহাকাশ মিশনের সঙ্গে এর চেয়ে উপযুক্ত প্রতীক আর কী-ই বা হতে পারে?
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়।
এই অভিযানের প্রতিটি সদস্যই একেকটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব দিচ্ছেন - ভারত, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড আর আমেরিকা। আশ্চর্যের বিষয়, রাজহাঁসের প্রতীক সব দেশের মনেই সাড়া জাগিয়েছে। একসঙ্গে মিশেছে সৌন্দর্য, ঐক্য, শক্তি আর কোমলতা। হাঙ্গেরির নভোচারী টিবর কাপু-ই রাজহাঁসের নামকরণ করেন 'জয়'।
মহাকাশযানটি কক্ষপথে পৌঁছলে জয় ভেসে উঠবে, আর সেই মুহূর্তই বলবে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণক্ষেত্রের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে এসেছেন তাঁরা। এই দৃশ্য শুধু একটি ছোট্ট খেলনার সঙ্গে জুড়ে আছে তাই নয়, বরং এ এক শক্তিশালী বার্তার বহিঃপ্রকাশও। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়বে আবেগের সেই মুহূর্ত, আর এই ছোট রাজহাঁস নীরবে জানাবে, “আমরা পৌঁছেছি।”
আমেরিকার অভিজ্ঞ নভোচারী, মিশনের কমান্ডার পেগি হুইটসনের কথাতেই ধরা পড়ে জয়-এর আসল মানে। তিনি বলেন, ‘জয় আমাদের পার্থক্যগুলোকে উদযাপন করে, আবার আমাদের এক করে সেই বৃহত্তর উদ্দেশ্যের জন্য - মহাকাশের প্রতি ভালবাসা আর নিজেদের চেয়েও বড় কিছুর উপর বিশ্বাস।’
অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনে রয়েছে নানা গবেষণা, মহাকাশে হাঁটা, আর আন্তর্জাতিক সহায়তার নানা দিক। তবে জয় সেই মানবিক পরতটুকু এনে দেয়। মনে করিয়ে দেয়, মহাকাশ অভিযান শুধু রকেট আর গবেষণার নয় - এটা আবেগ আর গল্পের বিষয়।
একটা স্পেসশিপের ভিতরে যেখানে শুধু মিটার, গজ, আর পথনির্দেশক যন্ত্র, সেখানে পাঁচ ইঞ্চির তুলতুলে রাজহাঁসকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ মনে হতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে, জয় ঠিক সেখানেই মানিয়ে যায়, কারণ মহাকাশ শুধু বিজ্ঞানের জায়গা নয়। এটা অনুভব, প্রতীকের, আর আত্মারও আশ্রয়।