২৫ জুন ২০২৫, দুপুর ১২টা ১ মিনিট। নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আকাশে উড়ল ভারতের গর্ব, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লার মহাকাশযান।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা
শেষ আপডেট: 25 June 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৫ জুন ২০২৫, দুপুর ১২টা ১ মিনিট। নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আকাশে উড়ল ভারতের গর্ব, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লার মহাকাশযান। Axiom-4 মিশনের অংশ হিসেবে আজ, রাকেশ শর্মার চার দশক পর, আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পাড়ি দিলেন এক জন ‘ভারতীয়’। কিন্তু এই যাত্রা শুধুই এক নভোচরের নয়—এ এক সাধারণ পরিবারের ছেলে শুভাংশুর অসাধারণ স্বপ্নপূরণের কাহিনি।
লখনউয়ের একতলা বাড়ি থেকে মহাকাশের ঠিকানা
১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর, লখনউয়ের এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম শুভাংশুর। বাবা শম্ভুদয়াল শুক্লা সরকারি কর্মী, মা আশা গৃহবধূ। ছোটবেলায় মা-ই স্কুলে পৌঁছে দিতেন দুই ছেলেমেয়েকে। দু’কামরার ছোট্ট বাড়িতে বসে একচিলতে আকাশে তাকিয়ে শুভাংশু স্বপ্ন দেখতেন… একদিন তিনি মহাকাশে পাড়ি দেবেন।
সিটি মন্তেশ্বরী স্কুলে পড়াশোনা, শিক্ষকরা তখনই বুঝেছিলেন—ছেলেটা অন্যরকম। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, মাঠের কাজ—সবেতেই সেরা। ইঞ্জিনিয়ার হতেই পারতেন। কিন্তু আকাশ টানছিল। প্রথম প্রচেষ্টায়ই পেরোলেন NDA-র প্রবেশিকা। ২০০৫ সালে স্নাতক, পরে বিটেক। এরপর শুরু ফাইটার পাইলটের জীবনের। ২০০৬ সালে যোগ দিলেন ভারতীয় বায়ুসেনায়। মাত্র এক বছরের মধ্যেই ওড়ালেন Su-30 MKI, MiG-21, MiG-29, Jaguar-সহ একাধিক যুদ্ধবিমান। তাঁর উড়ানঘণ্টা ছাড়াল ২০০০।
দন্ত চিকিৎসক ড. কামনা শুভার সঙ্গে শুভাংশুর বিয়ে হয়। তাঁদের পুত্র কিয়াস—যার ছোট্ট চোখেও আজ বাবার আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন। ২০১৯ সালে ইসরোর গগনযান প্রকল্পের জন্য বাছা হয় তাঁকে। রাশিয়ার ইউরি গ্যাগারিন কসমোনট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মহাকাশ প্রশিক্ষণ। তারপর আসে আর এক ঐতিহাসিক ডাক—‘Axiom Mission 4’-এ নির্বাচিত হন পাইলট হিসেবে। তিনিই আজ মহাকাশযান পরিচালনার দায়িত্বে।
আজ শুভাংশুর বাবা বলেন, “আমার ছেলের জন্য গোটা দেশ প্রার্থনা করছে। ওর স্বপ্ন আমাদেরও স্বপ্ন হয়ে উঠেছে।” আর মা বলেন, “ও তো আমার বাচ্চা, চিন্তা হয়… কিন্তু আজ ওর উড়ানের দিন।” আজ শুধু শুভাংশু নয়, আকাশে উড়ল ভারতও। এক পাইলটের হাতে ধরা এক জাতির স্বপ্নপূরণ।