১৯২০-এর দশকে কিং তুতেনখামেনের সমাধি এক্সপিডিশনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটায় অনেকে ধরে নেন এটি ফ্যারাওয়ের প্রতিশোধ।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 2 July 2025 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাচীন মিশরের এক রহস্যময় কাহিনি বহুদিন ধরেই কৌতূহলের জায়গা ধরে রেখেছে, তা হল ‘ফ্যারাওয়ের অভিশাপ’। বিশ্বাস ছিল, কোনও ফ্যারাওয়ের সমাধি খুললে কিংবা তার দেহাবশেষ স্পর্শ করলে নেমে আসবে মৃত্যুর ছায়া।
১৯২০-এর দশকে কিং তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কারের পর, এই কাহিনি আরও জোরাল হয়। এক্সপিডিশনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটায় অনেকে ধরে নেন এটি ফ্যারাওয়ের প্রতিশোধ। কিন্তু পরবর্তী চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে আসে এক ভিন্ন কারণ, অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস (Aspergillus flavus) নামের এক বিষাক্ত ছত্রাক।
সেই ছত্রাক, যাকে একসময় মৃত্যু ও অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হত, এখন হয়ে উঠেছে নতুন আশার প্রতীক। ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া (University of Pennsylvania)-র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস (Aspergillus flavus)-এর তৈরি বিশেষ এক যৌগ অ্যাসপেরিগমিসিন (asperigmiycins) ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।
কী বলছে গবেষণা?
বিশ্বখ্যাত জার্নাল নেচার কেমিক্যাল বায়োলজি (Nature Chemical Biology)-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, তুতেনখামেনের সমাধি থেকে পাওয়া ছত্রাক থেকে নির্গত এক ধরনের প্রাকৃতিক যৌগ লিউকেমিয়া কোশের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এগুলোর কার্যকারিতা আরও বেড়েছে যখন এতে রয়্যাল জেলির একটি উপাদান যোগ করা হয়েছে। এই যৌগগুলোর প্রতিক্রিয়া বর্তমানের cytarabine ও daunorubicin-এর মতো প্রচলিত কেমোথেরাপির ওষুধের সমতুল্য বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।
প্রফেসর শেরি গাও যিনি গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন, বলছেন, ‘প্রকৃতি আমাদের কাছে এক বিশাল ফার্মেসি, আমাদের দায়িত্ব সেই রহস্য উন্মোচন করা।’
আরও বলা হয়েছে, এই যৌগ ক্যানসার কোশ বিভাজনের জন্য অপরিহার্য মাইক্রোটিবিউল গঠনকে বাধা দেয়। এর প্রবেশে সহায়ক একটি জিন SLC46A3-এর কথাও চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা এই ওষুধের কার্যকারিতাকে আরও বেশি করে তোলে।
আরেক গবেষক বলেন, ‘এই জিন আমরা অন্যান্য ছত্রাকেও পেয়েছি, যা ভবিষ্যতে আরও নতুন ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করছে।’