আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (ISS) রওনা দেওয়ার কথা ছিল অ্যাক্সিয়ম-৪ (Axiom-4) মিশনের। ভারতের বায়ুসেনার পাইলট শুভাংশু শুক্লা সহ চার মহাকাশচারী এই অভিযানে অংশ নিতে চলেছিলেন।

শুভাংশু শুক্লা
শেষ আপডেট: 11 June 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (ISS) রওনা দেওয়ার কথা ছিল অ্যাক্সিয়ম-৪ (Axiom-4) মিশনের। ভারতের বায়ুসেনার পাইলট শুভাংশু শুক্লা সহ চার মহাকাশচারী এই অভিযানে অংশ নিতে চলেছিলেন। তবে যাত্রার নির্ধারিত দিন মঙ্গলবার ফের একবার তা স্থগিত করা হল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন এক বিবৃতিতে জানান, স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে একটি লিক ধরা পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুভাংশু শুক্লা মহাকাশে পাড়ি দেওয়া দ্বিতীয় ভারতীয় হতে চলেছেন। এর আগে ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা আট দিন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরেন। তাঁর পর শুভাংশু’র এই যাত্রাকে ঘিরে দেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে উন্মাদনা।
তবে মহাকাশযাত্রায় শুধু যন্ত্রপাতি নয়, শুভাংশু সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয়তার এক মিষ্টি ঝলক। ‘ক্রু কাউন্টডাউন টু লঞ্চ’ শীর্ষক একটি ভিডিওতে শুভাংশু জানান, “আমি মহাকাশে কিছু ভারতীয় খাবার নিয়ে যাচ্ছি। আমি নিয়ে যাচ্ছি আমরস, মুগ ডালের হালুয়া এবং গাজরের হালুয়া। এগুলো আমার প্রিয়, আর আমি অত্যন্ত খুশি যে, মহাকাশ স্টেশনে উপস্থিত সহকর্মীদেরও এগুলো খাওয়াতে পারব।”
তবে এ বিষয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করলেও, তাঁর বোন সুচি শুক্লা এই খাবারগুলি তাঁদের লখনউয়ের বাড়ি থেকে পাঠানো হয়েছে—এই দাবি একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরাও অ্যাক্সিয়মের ভিডিও থেকেই জেনেছি যে শুভাংশু এই খাবার নিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের মিশনে পরিবারের কোনও হস্তক্ষেপের সুযোগই নেই। তাই বাড়ি থেকে খাবার পাঠানোর খবরটা একেবারে ভিত্তিহীন।”
তিনি আরও জানান, যোগাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সচেতন শুভাংশু বরাবরই হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পছন্দ করেন। “ছোট থেকেই ও খেতে ভালবাসত। কিন্তু ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে যোগদানের পর থেকেই খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনতে শুরু করে। বাড়িতে থাকলে ওর পছন্দ ডাল-ভাত, কম তেলে রান্না করা ঘরোয়া খাবার।”
তাঁর কথায়, “মিশন পিছিয়ে যাওয়ার খবরে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। আমরাও অপেক্ষা করছি পরবর্তী আপডেটের।”
এদিকে ISRO জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে মহাকাশে উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্গম ও বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি বিশেষ গবেষণাও চালানো হবে। NASA ও BioServe-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই ‘Sprouting Salad Seeds in Space’ প্রোজেক্টের আওতায় বিশ্লেষণ করা হবে মহাকাশে অঙ্কুরিত বীজের জিনগত গঠন, মাইক্রোবায়াল লোড ও পুষ্টিমান।
এ প্রসঙ্গে CK Birla Hospital, Delhi-র ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান পরামর্শদাতা ডাঃ নরেন্দ্র সিংলা বলেন, “মহাকাশে খাওয়া শুধু খাওয়ার ব্যাপার নয়—এটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। খাবারকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য করে তুলতে ব্যবহৃত হয় ফ্রিজ-ড্রায়িং, থার্মোস্ট্যাবিলাইজেশন, এমনকি বিকিরণও। প্রতিটি পদ কড়া নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুত হয়, যাতে পুষ্টি বজায় থাকে ও কোনও স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকে।”
তিনি জানান, মহাকাশে খাওয়ার সময় খাবারের কণিকা ও তরল ভেসে যেতে পারে, যা যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সেখানে খাবার থাকে বিশেষভাবে সিল করা পাউচ বা ক্যান-এ, যা জল ঢুকিয়ে পুনরায় প্রস্তুত করা যায়। জল ইনজেকশনের জন্য ব্যবহার করা হয় বিশেষ ওয়াটার গান। চামচ-ছুরি-ফোর্কও থাকে চুম্বকযুক্ত, যাতে ভেসে না যায়।