এই নিয়ে অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনকে চতুর্থবার বাধার সম্মুখীন হতে হল। কয়েক দিন আগেই, খারাপ আবহাওয়ার জন্য উৎক্ষেপণ স্থগিত রাখা হয়েছিল।

শেষ আপডেট: 11 June 2025 08:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১ জুন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) রওনা দেওয়ার কথা ছিল অ্যাক্সিয়ম-৪ (Ax-4) মিশনের। কিন্তু ফের একবার সেই যাত্রা পিছিয়ে গেল, জানিয়েছে স্পেসএক্স। রকেটের ‘স্ট্যাটিক ফায়ার’ টেস্টের পর, বুস্টার পর্যায়ে লিক্যুইড (তরল) অক্সিজেন (LOx) লিকের কারণে মিশনটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পেসএক্স জানায়, ‘লিক্যুইড অক্সিজেন লিকএর সমস্যাটি মেরামতের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। তাই আগামিকালের ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণ আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। মেরামতের কাজ শেষ হলে এবং রেঞ্জ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর নতুন উৎক্ষেপণের তারিখ জানানো হবে।’
এর আগে স্পেসএক্স জানিয়েছিল, আবহাওয়া ৮৫ শতাংশ অনুকূলে থাকলেও উৎক্ষেপণ পথে উপরের দিকের বাতাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-ও উৎক্ষেপণ স্থগিতের কথা নিশ্চিত করেছে। তাদের এক্স পোস্টে বলা হয়, ‘ফ্যালকন ৯ উৎক্ষেপণযানের বুস্টার স্টেজ যাচাইয়ের জন্য লঞ্চপ্যাডে সাত সেকেন্ডের হট টেস্ট চালানো হয়। সেই সময়ই লিক্যুইড অক্সিজেন লিক চিহ্নিত হয়।’
তারা আরও জানায়, ‘স্পেসএক্স ও অ্যাক্সিয়মের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, লিক সারিয়ে তার পর সম্পূর্ণ যাচাই নিশ্চিত করে তবেই উৎক্ষেপণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই ১১ জুনের মিশন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।’
এই মিশনেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লার। অ্যাক্সিয়ম স্পেস, নাসা, স্পেসএক্স ও ইসরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মিশনই ভারতের তরফে দ্বিতীয় মানব মহাকাশযাত্রা। এর আগে ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন।
এই নিয়ে অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনকে চতুর্থবার বাধার সম্মুখীন হতে হল। কয়েক দিন আগেই, খারাপ আবহাওয়ার (৪৫ শতাংশ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ও প্রবল বাতাস) জন্য উৎক্ষেপণ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
উৎক্ষেপণের পর অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের নভোচারীরা প্রায় ১৪ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকবেন। এই সময় তাঁরা ৩০টিরও বেশি দেশের গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিযুক্ত থাকবেন। এই গবেষণার মূল ক্ষেত্র হবে মাইক্রোগ্র্যাভিটি, জীববিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান।