আমাদের পেটের সুস্বাস্থ্য কেবল মেজাজ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই নয়, প্রভাব ফেলতে পারে ঘুমের ওপরও।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 18 August 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের পেটের সুস্বাস্থ্য কেবল মেজাজ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই নয়, প্রভাব ফেলতে পারে ঘুমের ওপরও। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, অন্ত্রের কিছু বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া অনিদ্রার (Insomnia) ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবার উল্টোদিকে, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা শরীরে কিছু নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া বলতে বোঝায়, ঘুমোতে অসুবিধা হওয়া বা ঘুম আসলেও তা ধরে রাখতে না পারা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া। ব্রিটেনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক এই সমস্যায় ভোগেন। অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ, অতিরিক্ত শব্দ, মদ্যপান, ক্যাফেইন কিংবা পালা করে রাতের শিফটে কাজ, সবই এর কারণ হতে পারে বলে জানাছে এনএইচএস (NHS)।
এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব জেনারেল সাইকিয়াট্রি-তে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে - অনিদ্রার সমস্যায় ভুক্তভোগী ৩,৮৬,৫৩৩ জনের তথ্য, ১৮,৩৪০ জনের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের তথ্য (MiBioGen অ্যালায়েন্স), এবং ৮,২০৮ জনের তথ্য (ডাচ মাইক্রোবায়োম প্রোজেক্ট)।
এই সমস্ত বিশ্লেষণে জানা গিয়েছে, মোট ১৪টি ব্যাকটেরিয়া গ্রুপের সঙ্গে অনিদ্রার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আবার ৮টি ব্যাকটেরিয়া গ্রুপ অনিদ্রার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গেও যুক্ত। অনিদ্রা দেখা দিলে অন্ত্রে ৭ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ ৪৩% থেকে ৭৯% কমে যায়। অপরদিকে ১২টি ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ ৬৫% থেকে চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বিশেষভাবে, গবেষকরা জানিয়েছেন ‘Odoribacter’ নামক ব্যাকটেরিয়া শ্রেণির উপস্থিতির সঙ্গে অনিদ্রার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে যুক্ত। এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে ছোট চেইনের ফ্যাটি অ্যাসিড (যেমন বিউটাইরেট) তৈরি করে, যা সঠিক মাত্রায় থাকলে অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তবে, এখানে একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে মানছেন গবেষকরা কারণ, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা সকলেই ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। তাই এই ফলাফল অন্য জাতিগোষ্ঠী বা ভৌগোলিক অঞ্চলের ক্ষেত্রে কতটা প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস, যা সরাসরি মাইক্রোবায়োমকে প্রভাবিত করে, সেটিও এই গবেষণায় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
গবেষকরা যদিও যুক্তি দিয়েছেন, “অনিদ্রা ও অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটার প্রভাব আসলে দু’দিক থেকে কাজ করে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া, নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণসহ নানা জটিল প্রক্রিয়া।”
ভবিষ্যৎ চিকিৎসার পরিকল্পনা তাহলে এই গবেষণার প্রভাব কী?
গবেষকদের মতে, এই প্রাথমিক প্রমাণ ভবিষ্যতে প্রোবায়োটিকস, প্রিবায়োটিকস বা ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্টেশন-এর মতো নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির পথ খুলে দিতে পারে, যা ইনসমনিয়ার সমস্যায় কার্যকর হতে পারে।