গগনযান কর্মসূচির প্রস্তুতির জন্য আমেরিকা থেকে দেশে ফিরছেন নভোচারী শুভাংশু শুক্লা। মহাকাশে কাটানো অভিজ্ঞতার নথি হবে ভারতের মানব মহাকাশ মিশনের হ্যান্ডবুক।

শুভাংশু শুক্লা
শেষ আপডেট: 15 August 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতার ৭৯তম বর্ষপূর্তিতে লালকেল্লা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বড় ঘোষণা করলেন। তিনি জানালেন, ভারতের ২১ শতকের মহাকাশ নায়ক, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা আমেরিকা থেকে দেশে ফিরছেন। অ্যাক্সিওম ৪ বাণিজ্যিক মহাকাশ মিশনের অংশ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৮ দিন কাটিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, শুভাংশু শুক্লা যখন মহাকাশে ছিলেন, তখন তাঁকে একটি বিশেষ 'হোমওয়ার্ক' দেওয়া হয়েছিল। সেটি হলো, মহাকাশ স্টেশনে তাঁর প্রশিক্ষণ এবং থাকার পুরো অভিজ্ঞতাটি নথিভুক্ত করা। এই নথিটি ভারতের নিজস্ব মানব মহাকাশযান কর্মসূচি 'গাগনযান'-এর জন্য একটি নির্দেশিকা বা হ্যান্ডবুক হিসেবে কাজ করবে।
ভারতের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচির লক্ষ্য হল সম্পূর্ণ ভারতীয় রকেটে একজন ভারতীয় নভোচারীকে ভারতীয় মাটি থেকে মহাকাশে পাঠানো। এই কর্মসূচির নভোচারীদের 'গগনযাত্রী' বলা হচ্ছে।
শুভাংশু শুক্লা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকা ও স্পেসএক্সের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মহাকাশ থেকে ফিরে আসার পর এখন তিনি ভারতের মানব মহাকাশযান কর্মসূচির প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারত একটি নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ তৈরি করবে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে একজন ভারতীয়কে অবতরণ করাবে।
গত কয়েক বছর আগে গগনযান কর্মসূচির জন্য চারজন নভোচারীকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে শুভাংশু শুক্লাও ছিলেন। নাসার সঙ্গে ইসরোর মানব মহাকাশ মিশনের জন্য তাঁকে প্রধান নভোচারী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তিনি ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন ৯ রকেটে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যান। স
শুভাংশু শুক্লা মহাকাশে থাকাকালীন সাতটি ভারত-কেন্দ্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। এই পরীক্ষাগুলোর ফলাফল এখন দেশে পাঠানো হয়েছে।
গাগনযান কর্মসূচির জন্য লঞ্চ ভেহিকেল মার্ক ৩ তৈরি করা হলেও, ক্রু মডিউল বা ক্যাপসুলের প্রযুক্তি নিয়ে এখনও কাজ চলছে। শুভাংশু শুক্লার অভিজ্ঞতা এই কাজটিকে দ্রুত সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৪ সালে উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মা প্রথম ভারতীয় নভোচারী হিসেবে রাশিয়ার মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন। তাঁর দেখানো পথেই এবার শুভাংশু শুক্লা গগনযান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। ৩৯ বছর বয়সী এই নভোচারীর দীর্ঘ কর্মজীবনে এই কর্মসূচিতে অনেক বড় অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
ভারত যদি নিজস্ব প্রযুক্তিতে একজন ভারতীয়কে মহাকাশে পাঠাতে সফল হয়, তবে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করবে। এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। ২০০৩ সালের পর আর কোনো দেশ নিজস্ব প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠাতে পারেনি। এখন সবার নজর শুভানশু শুক্লা এবং প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের দিকে।