মৃত তিমির শরীরে জমে থাকা মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন যে কোনও মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। জানুন বিজ্ঞানীরা কীভাবে ব্যাখ্যা করছেন এই ভয়ঙ্কর ঘটনা।

'ফেটে' যায় মৃত তিমির দেহ!
শেষ আপডেট: 13 August 2025 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্জন সমুদ্রসৈকতে ভেসে এল এক বিশাল মৃত তিমির দেহ। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। কেউ তার কাছে যাওয়ার সাহস করছেন না। অথচ তিমিটি মৃত, তাতে তো প্রাণ নেই। তবু তাকে ঘিরে এত ভয় কেন? কারণ প্রচলিত ধারণা বলছে, জীবিত তিমির থেকেও অনেক বেশি বিপজ্জনক হতে পারে একটি মৃত তিমি। জানেন কেন? কারণ যে কোনও মুহূর্তে সেই দেহে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে! বাস্তবেই কি এমনটা সম্ভব? আর এমন বিস্ফোরণ কতটা ভয়ানক হতে পারে? এই প্রশ্নেরই উত্তর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তিমি মারা গেলে তার শরীরে রক্ত সঞ্চালন ও শ্বাসপ্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে শরীরের কোষগুলিতে তৈরি হয় অ্যাসিডিক অবস্থা এবং শুরু হয় পচনপ্রক্রিয়া, অর্থাৎ পিউট্রেফ্যাকশন।
এই অবস্থায় দেহের অভ্যন্তরে জমা হতে থাকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস—বিশেষ করে মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন। গ্যাস বেরোনোর স্বাভাবিক কোনও রাস্তা না থাকায় শরীরের ভিতরে চাপ ক্রমশ বাড়ে। একসময় সেই চাপই দেহ ফাটিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
বিস্ফোরণের পরে ঠিক কী হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিস্ফোরণের ফলে তিমির শরীরের মাংস, তরল পদার্থ ও গ্যাস একসঙ্গে ছিটকে যেতে পারে বহু মিটার দূর পর্যন্ত। সেই সঙ্গে গ্যাসের তীব্র গন্ধ ও রাসায়নিক উপাদান মানবদেহে শ্বাসকষ্ট বা সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। এর প্রতিকারের উপায়ও আছে:
১. দেহে জমা গ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় তিমির শরীরে ছিদ্র করে গ্যাস নিষ্কাশন করা হয়
২. এই প্রক্রিয়াও বিপজ্জনক হতে পারে, তাই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী দল প্রয়োজন
৩. পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে তিমির দেহ সুরক্ষিতভাবে অপসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়
বিশ্বের বিভিন্ন উপকূলে বহুবার মৃত তিমি আপনা-আপনিই বিস্ফোরিত হয়েছে। ইউটিউব ও সংবাদমাধ্যমে এমন অনেক ভিডিও এখনও পাওয়া যায়। তাই সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে, শুধু দুর্গন্ধ বা পচন নয়, প্রাণহানির ঝুঁকিও থেকে যায়।