পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রতি বছরই উপরের দিকে উঠছে, আর এই বিপজ্জনক প্রবণতা ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা সমাধানের পথ খুঁজে চলেছেন।

পুরো পৃথিবীটাই এবার ছাতার নীচে!
শেষ আপডেট: 10 August 2025 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যত দিন যাচ্ছে, ততই গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রতি বছরই উপরের দিকে উঠছে, আর এই বিপজ্জনক প্রবণতা ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা সমাধানের পথ খুঁজে চলেছেন। সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এবার এক অভিনব পরিকল্পনা সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা—পৃথিবীর জন্য আকাশে বিশাল এক "ছাতা" বানানো, যা সূর্যের তাপের বড় অংশকে পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেবে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বহু বছর ধরে আলোচনায় থাকা এই ধারণা এবার বাস্তবায়নের পথে।
পুরো পৃথিবীটাই এবার ছাতার নীচে!
প্ল্যানেটারি সানশেড ফাউন্ডেশনের দাবি, এই উদ্যোগকে 'সৌর বিকিরণ ব্যবস্থাপনা' বলা যেতে পারে, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতে কার্যকর হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় তিনটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে—কার্বন নির্গমন কমানো, ইতিমধ্যেই থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড কমানো, এবং সূর্যের তাপ ধরে রাখা বা প্রতিফলিত করা।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন যাতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে। তবে গবেষণা বলছে, আগামী এক দশকের মধ্যে এই সীমা অতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে পৃথিবীর আবহাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠ, এবং জীববৈচিত্র্যে।
এই 'ছাতার' প্রয়োজন কেন?
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বরফ গলন, তীব্র দাবানল—সবই জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মরগান গুডউইন জানান, মহাকাশে এমন একটি সানশেড তৈরি মোটেও সহজ কাজ নয়। তবে ডিকার্বনাইজেশনের পাশাপাশি বিকল্প উপায় খুঁজে বের করাই এখন জরুরি। তার মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বন্ধ না করলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে মানবসভ্যতাকে। সময়ও হাতে আর বেশি নেই।
কাজ করবে কীভাবে?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী 'ল্যাগ্রেঞ্জ-১ পয়েন্টে' একটি বিশাল মেগাস্ট্রাকচার স্থাপন করা হবে। এটি সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগেই তার বড় অংশ প্রতিফলিত করে দেবে। ফাউন্ডেশনের ভাষায়, এটি হবে একটি "গ্রহীয় সানশেড", যা মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করবে সূর্যের অতিরিক্ত তাপের হাত থেকে।