Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

জমি ছাড়াই চাষ! এবার পুষ্টিতে ভরা ‘ইলেকট্রিক মাটি’তেই ফলবে ফসল

সুইডেনের গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন ‘ই-সয়েল’ বা ইলেকট্রিক মাটি— যেখানে বিদ্যুতের সাহায্যে মাটি ছাড়াই ফসল ফলানো সম্ভব। মাত্র ১৫ দিনে শিকড়ের বৃদ্ধি ৫০% পর্যন্ত বাড়ায় এই প্রযুক্তি।

 

জমি ছাড়াই চাষ! এবার পুষ্টিতে ভরা ‘ইলেকট্রিক মাটি’তেই ফলবে ফসল

ই-সয়েল বা বৈদ্যুতিক মাটি

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 10 August 2025 18:13

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে দ্রুত গতিতে। খাদ্য উৎপাদনের চাপও বাড়ছে সমান তালে। কিন্তু অপর দিকে কমে যাচ্ছে উর্বর জমির পরিমাণ। এই সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ভবিষ্যতের কৃষিকে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি সুইডেনের গবেষকেরা উদ্ভাবন করেছেন এক অভিনব চাষের মাধ্যম, যার নাম ‘ইলেকট্রনিক সয়েল’ বা বৈদ্যুতিক মাটি।

এটি সাধারণ কোনও মাটির প্রকার নয়। বরং এক ধরনের সাবস্ট্রেট বা কৃত্রিম পরিবেশ, যেখানে গাছ চাষ করা হয় বিদ্যুতের সাহায্যে। আর তার ফল? গবেষকদের দাবি, এই ই-মাটিতে যখন যবজাতীয় গাছ লাগানো হয়, তখন মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই গাছের শিকড় ৫০ শতাংশ বেশি বেড়ে যায়।

ই-সয়েল বা বৈদ্যুতিক মাটি আসলে কী?

এই মাটি কোনওভাবেই সাধারণ জমির মতো নয়। এটি হাইড্রোপনিক চাষ পদ্ধতির অন্তর্গত— অর্থাৎ মাটি ছাড়াই গাছ বেড়ে ওঠে। এই ব্যবস্থায় গাছের শিকড় ডোবানো থাকে একটি বিশেষ স্তরে, যেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে জল ও খনিজ পৌঁছে দেওয়া হয়। সেই স্তরেই এবার সংযুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ, যা শিকড়ের বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করে।

এই ইলেকট্রনিক সাবস্ট্রেট তৈরি করেছেন সুইডেনের লিংকোপিং ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থা আর ভবিষ্যতের খাদ্যচাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। সেখান থেকেই উঠে এসেছে এই নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ।

কেমন করে কাজ করে এই বৈদ্যুতিক মাটি?

‘ই-সয়েল’-এর ভেতর যে স্তরটি থাকে, সেটি আসলে এক ধরনের পরিবাহী উপাদান। বিদ্যুৎ চালিয়ে দেওয়া হয় সেই স্তরে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যুতের সরাসরি প্রভাব পড়ে গাছের অক্সিন (একধরনের গ্রোথ হরমোন) প্রবাহের উপরে। ফলত শিকড়ের বৃদ্ধি হয় দ্রুত এবং স্বাস্থ্যকর ভাবে।

এই ই-মাটি বন্ধ ঘরে বা কন্ট্রোলড এনভায়রনমেন্টে চাষের উপযুক্ত। অর্থাৎ সূর্য, বৃষ্টি, মাটির ওপর নির্ভর না করেই, শহরের মধ্যেই উঁচু ভবনের ছাদ বা ফাঁকা ঘরে এই প্রযুক্তিতে ফসল ফলানো সম্ভব।

মহাকাশেও এই প্রযুক্তির ছোঁয়া

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও এই ধরণের হাইড্রোপনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর বাইরে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ রাখার পরিকল্পনায় সেখানে নানা রকম শাকসবজি, ফলমূল এমনকি গমজাতীয় ফসলও চাষ করা হচ্ছে। এখন সেই প্রযুক্তিই আরও উন্নত করে আনা হচ্ছে মাটির অভাবে ভুগতে থাকা পৃথিবীতে।

বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট কী বলছে?

গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS)’ নামক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে। তাতে বলা হয়েছে, এই ইলেকট্রনিক সাবস্ট্রেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে গাছের শিকড়ের বৃদ্ধির হার গড়ে ৫০% বেড়ে যায় মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে ব্যবহার শুরু হলে তবেই বোঝা যাবে এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা।

বিশ্বের শহরগুলিতে ক্রমশ কমছে খালি জমি। সেখানেই নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে হাইড্রোপনিক ও ই-সয়েল চাষ। ভবিষ্যতে এমনও হতে পারে, একটি বহুতলের ছাদে কিংবা বেজমেন্টে বেড়ে উঠছে চাল, ডাল, গম বা সবজি, বিদ্যুতের মাধ্যমে। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির টেকসই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এই প্রযুক্তি। আর তাই বলাই যায়— ভবিষ্যতের কৃষি হয়তো সত্যিই বিদ্যুতে চলবে।


```