এ কোনও কাকতালীয় বা একবারের ঘটনা নয়। এই অদ্ভুত সংখ্যা শুধু ChatGPT-তেই নয়—Gemini, Claude-এর মতো অন্যান্য এআই মডেলেও বারবার ফিরে আসছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 July 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবার কোনও না কোনও প্রিয় সংখ্যা থাকে। সেটা হয়তো কোনভাবে তার অবচেতনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। কিন্তু জানেন কি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার-ও নিজের একটা প্রিয় সংখ্যা আছে? কিন্তু যন্ত্রেরও কি অবচেতন বলে হয় নাকি?
সমীক্ষা বলছে, আপনি যদি চ্যাটজিপিটি-কে (ChatGPT) বলেন, “১ থেকে ৫০-এর মধ্যে একটা সংখ্যা বলো”, তাহলে উত্তর হিসেবে ‘২৭’ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এটা কোনও কাকতালীয় বা একবারের ঘটনা নয়। এই অদ্ভুত নির্দিষ্ট সংখ্যাটা শুধু ChatGPT-তেই নয়—Gemini, Claude-এর মতো অন্যান্য এআই মডেলেও বারবার ফিরে আসছে।
নিরীহ একটি প্রশ্ন থেকে শুরু হয়ে এখন এটা এক কৌতূহলজনক ইন্টারনেট-রহস্যে পরিণত হয়েছে: ২৭-এর নেপথ্যে কী রয়েছে?
সম্প্রতি একাধিক ইউজার এবং গবেষক বিভিন্ন এআই চ্যাটবটকে একই ধরনের সংখ্যাবিষয়ক প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এবং ফলাফল আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। যদিও কিছু মডেল, যেমন LeChat কখনও ৩৭ বলে, Claude কখনও ৪২-র দিকে ঝোঁকে, তবে ChatGPT-তে ২৭ একটানা ফিরে এসেছে বারবার।
কোনও কন্সপিরেসি থিওরিতে যাওয়ার আগে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার - AI নিজে থেকে কোনও সংখ্যা বানায় না। ChatGPT-এর মতো ভাষা মডেল তৈরি হয় লক্ষ লক্ষ বই, ওয়েবসাইট, ফোরাম আর মানুষের কথোপকথনের বিশাল ডেটাসেটের ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং, এর প্যাটার্নগুলোও আমাদের মধ্যে থেকেই উঠে আসে।
এই জন্যই বহু গবেষক মনে করছেন, ২৭-এর এই জনপ্রিয়তা হয়তো আমাদের অবচেতন মনের প্রতিফলন। একজন AI গবেষক বলেন, “AI কোনও জাদু নয়, এটা ভবিষ্যদ্বাণী বলা যেতে পারে। যদি মানুষের মধ্যে ২৭ বলার প্রবণতা থাকে, তাহলে মডেল সেটাই শিখবে। ফলে এর আউটপুট আসলে আমাদের ইনপুটেরই প্রতিচ্ছবি।”
কিন্তু ২৭-ই বা কেন? এটা তো কোনও জোড় সংখ্যা নয় বা ১ থেকে ৫০-এর ঠিক মাঝখানেও পড়ে না। তা সত্ত্বেও এই সংখ্যাটি বিজ্ঞানে এবং সংস্কৃতিতে অদ্ভুতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণস্বরূপ: চাঁদ পৃথিবীকে ঘোরে ২৭ দিনে, মানবদেহের ত্বক প্রতি ২৭ দিনে নতুন করে তৈরি হয়, সংখ্যাতত্ত্বে ২৭-কে “আধ্যাত্মিকভাবে চার্জড” বা শক্তিশালী সংখ্যা মনে করা হয়। এবং সবচেয়ে বিখ্যাত তত্ত্ব — “২৭ ক্লাব”। জিমি হেনড্রিক্স, কুর্ট কোবেইন, অ্যামি ওয়াইনহাউস-এর মতো প্রতিভাবান সঙ্গীতশিল্পীরা সকলেই মারা গিয়েছেন ২৭ বছর বয়সে।
এই রকম নানা স্তরের তাৎপর্য হয়তো সংখ্যাটিকে আরও বেশি করে মানুষের কনটেন্টে জায়গা করে দিয়েছে, আর সেখান থেকেই AI-এর ট্রেনিং ডেটায়।
AI-এর এই ছোট্ট সংখ্যা পছন্দ আসলে আমাদের আচরণ, আগ্রহ এবং সংস্কৃতির একটা মাইক্রোস্কোপিক প্রতিফলন। কোনও দৈবশক্তি নয়, এই ২৭ সংখ্যাটা আমাদেরই মনে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে AI সেটাই শিখেছে। আজকের এই ধরনের ছোট অথচ অদ্ভুত প্যাটার্নগুলো ভবিষ্যতে মানুষ ও যন্ত্রের মেলবন্ধনের গভীরতাই তুলে ধরছে।