পৃথিবীতে অক্সিজেন ফুরোচ্ছে! কিছু বছরের মধ্যেই প্রাণহীন হয়ে পড়বে এই গ্রহ।

'শ্বাসকষ্টে' ভুগছে পৃথিবী (ছবি: এআই)
শেষ আপডেট: 3 August 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন ধারণা ছিল, পৃথিবীর 'শেষ' আসবে অন্তত পাঁচশো কোটি বছর পরে। যেদিন সূর্য 'হোয়াইট ডোয়ার্ফে' রূপান্তরিত হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা জানাচ্ছে, মানবসভ্যতার 'শেষ দিন' হয়তো আরও অনেক আগে আসতে চলেছে। কারণ, ধীরে ধীরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রাণধারণের মূল উপাদান 'অক্সিজেন'।
গবেষকরা বলছেন, প্রায় ১০০ কোটি বছরের মধ্যেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ অক্সিজেন নিঃশেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, এখন থেকে ১১০ কোটি বছর পর বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ দাঁড়াবে মাত্র ১ শতাংশে। যেটুকু অক্সিজেন এখন আছে, তা আমাদের জীবন চালানোর জন্য যেমন জরুরি, তেমনি অন্য প্রাণীর জন্যও।
কেন এমনটা ঘটবে?
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় ২১ শতাংশ অংশ জুড়ে রয়েছে অক্সিজেন। এই অক্সিজেনই প্রাণের অস্তিত্বের ভিত্তি। কিন্তু পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন, জৈবিক ও ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং সূর্যের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে সেই পরিমাণ টেকানো সম্ভব হবে না বলেই মত গবেষকদের।
জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকার জর্জিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি চালিয়েছেন। তাঁরা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ জলবায়ু, বায়ুর গঠন, সূর্যের বিকিরণ ও জীব বৈচিত্র্যের উপর প্রভাব, সব কিছু বিচার করে একটি মডেল তৈরি করেন।
তাঁদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। সেই সঙ্গে পাল্টাবে পৃথিবীর বায়ুর গঠনও। এর ফলে অক্সিজেন উৎপাদনের প্রক্রিয়া ধাক্কা খাবে। আর তখনই প্রাণধারণের উপযুক্ত পরিবেশ শেষ হয়ে যাবে।
এর প্রভাব কী হতে পারে?
এই গবেষণা জানাচ্ছে, প্রাণের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার মতো পরিবেশ পৃথিবীতে আর মাত্র ১০০ কোটি বছর থাকবে। তার পর যা থাকবে, তা প্রাণহীন এক গ্রহ মাত্র। প্রথমে বিলুপ্ত হবে প্রাণিজগৎ, তারপর ধ্বংস হবে উদ্ভিদ ও ব্যাকটেরিয়ার স্তরও।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পর্যায়টি হবে পৃথিবীর ইতিহাসে এক ‘অক্সিজেন-পূর্ব’ দশার পুনরাবৃত্তি। একসময় যেমন পৃথিবী প্রাণহীন ছিল, ভবিষ্যতে তেমনই হয়ে পড়বে আবারও।
তাহলে বাঁচার উপায় কী?
এই আশঙ্কাজনক গবেষণা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে মানবসভ্যতাকে। যদিও এই সময়সীমা এখন থেকে কোটি কোটি বছর দূরে, তবুও পৃথিবীর জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে আজকের সচেতনতা এবং ব্যবস্থা গ্রহণ ভবিষ্যতের সেই ভয়াবহ পরিণতির সময় হয়তো কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারে।