
শেষ আপডেট: 21 July 2023 09:24
বেঙ্গালুরুতে বিরোধী জোটের বৈঠকের শুরুতেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে জানিয়ে দিয়েছিলেন, কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য লালায়িত নয়। বিজেপির অপশাসন দূর করাই কংগ্রেসের লক্ষ্য।
শুক্রবার বৃষ্টিস্নাত একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে ঠিক সেই সুর যেন অনুরণিত হল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata banerjee on 21st July) স্পষ্ট করে বললেন, “আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। ইন্ডিয়া লড়বে। পাশে থাকবে তৃণমূল। জয় বাংলার মতো এবার জয় ইন্ডিয়া স্লোগানকে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে”।
পাটনায় বিরোধী জোটের বৈঠক শুরু ইস্তক বিজেপি কৌশলে একটা প্রচার ছড়িয়ে দিতে চাইছিল। তা হল, বিরোধী জোটের প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী কে? বিজেপির সেই পাতে ফাঁদে যেমন কংগ্রেস পড়েনি, তেমনই তৃণমূলও কোনওভাবেই ধরা দিল না। বরাবরই একুশে জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে (SahidDibas 2023) কানায় কানায় পূর্ণ থাকে তৃণমূল কর্মীদের আবেগ। যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে প্রথম দিন থেকে সঙ্গী তাঁদের আশা, দিদি একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি সাত বারের সাংসদ, কেন্দ্রে নরসিংহ রাও জমানা থেকে মন্ত্রী, রেলমন্ত্রীর সুবাদে মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ কমিটি তথা নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য ছিলেন, এখন তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী। তাই এই আকাঙ্খা হয়তো তাঁদের অমূলক নয়। কিন্তু এবার সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছিল, বক্তৃতায় সেই আকাঙ্খার কথা যেন কোনওভাবে প্রকাশ না পায়। একমাত্র দ্য ওয়ালে তা লেখা হয়েছিল। দেখা গেল, হয়েছেও তাই।
কিন্তু তা যেমন ঠিক, তেমনই এও দেখা গেল বিরোধী জোটকে যেন নেতৃত্ব দিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। জোটের ভবিষ্যৎ কর্মসূচীর সুর যেন বেঁধে দিতে চেয়েছেন তিনি। এদিন একুশের মঞ্চে মণিপুরে মা বোনেদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তার পর দিদি বলেন, “অরবিন্দের (পড়ুন অরবিন্দ কেজরিওয়াল) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী মিলে মণিপুরে যেতে পারি কিনা তা দেখতে বলেছি। ওখানে গিয়ে ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করব আমরা। সেখানকার মানুষের পাশে দাঁড়ব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে এদিন একুশের মঞ্চে (TMC Rally on 21st July) দেওয়া বক্তৃতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee on 21st July) বারবার জয় ইন্ডিয়া স্লোগান তুলেছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, গোটা বাংলায় ইন্ডিয়া জিতবে। যা থেকে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে বৃহত্তর জোটের সম্ভাবনাও তিনি উস্কে দিয়েছেন বলে অনেকের মত।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মমতা-অভিষেকের এই অবস্থান কৌশলগত। একুশের ভোটের পর থেকে বাংলায় সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজনের একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল বোঝাতে চাইল নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে ফেলতে ইন্ডিয়ার লড়াইয়ে তৃণমূলও শরিক। অর্থাৎ মোদীকে হারাতে বাংলায় সংখ্যালঘু ভোট যাতে ভাগাভাগি না হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টাও হল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এও মনে করছেন, আগামী দিনে ‘ইন্ডিয়া’র লড়াইতে বড় ভাবে দেখা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার কর্মসূচিতে তাঁকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাই, একুশের মঞ্চে বলা যাবে না, নির্দেশ নেতাদের