৬২ বছরের যোগরাজ জানালেন, এখন তিনি বেশিরভাগ সময় একা কাটান। নিজের শহরের বাড়িতে সন্ধে নামলে পাশে কেউ থাকে না। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িতে কেউ নেই।

যোগরাজ সিং
শেষ আপডেট: 17 November 2025 20:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসময়ে ভারতের দ্রুতগতির পেসার, পরে কোচিং জগতের পরিচিত মুখ - যোগরাজ সিং (Yograj Singh) আজ নিজের জীবনকে দেখছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন আলোয়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে (Interview) তিনি যে কথাগুলি বলেছেন, তা যেন তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী পথের এক নিঃসঙ্গ পরিণতির কাহিনি।
৬২ বছরের যোগরাজ জানালেন, এখন তিনি বেশিরভাগ সময় একা কাটান। নিজের শহরের বাড়িতে সন্ধে নামলে পাশে কেউ থাকে না। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িতে কেউ নেই। খাওয়ার সময় কখনও কোনও পরিচিত, কখনও কোনও অচেনা মানুষ খাবার দিয়ে যায় শুধু।
পরিবারের (Family) প্রতি ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে ক্লান্তি আর আত্মসমর্পণ। তাঁর কথায়, “মা, বাচ্চারা, নাতি-নাতনি, সবাইকে ভালোবাসি। কিন্তু কারও কাছে কিছু চাই না। জীবন শেষ হয়ে এসেছে। ঈশ্বর যখন চাইবেন, নিয়ে যাবেন। যেটুকু পেয়েছি তাতেই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
যোগরাজ সিংয়ের প্রথম বিয়ে হয়েছিল শবনম কৌরের সঙ্গে। এই দাম্পত্যে জন্ম যুবরাজ (Yuvraj Singh) ও জোরাবরের। কিন্তু ক্রমাগত অশান্তির কারণে সম্পর্ক ভেঙে যায়। যুবরাজ নিজেই পরে জানান, প্রতিনিয়ত ঝগড়ার জন্যই তিনি বাবা-মাকে আলাদা (Divorce) হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যোগরাজ বিয়ে করেন নীনা বুন্ধেলকে (সতবীর কৌর), যাঁর সঙ্গে তাঁর আরও এক ছেলে ভিক্টর এবং মেয়ে অমরজোৎ।
কিন্তু যোগরাজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ধাক্কা আসে যখন শবনম ও যুবরাজ তাঁর বাড়ি ছেড়ে চলে যান। সাক্ষাৎকারে যোগরাজ বলেন - যাঁদের জন্য সব করলাম, তাঁরা আমার জীবনে থাকলেন না, এটাই সবচেয়ে বড় আঘাত।
যদিও নিজের ভুলের কথাও এড়াননি তিনি। বলেছেন, আমিও নিষ্পাপ নই, ভুল করেছি। কিন্তু কোনও দিন কারও খারাপ চাইনি। ঈশ্বরকে বলেছি, যদি ভুল করে থাকি, আমাকে পথ দেখাও।
যোগরাজ বলেন, ক্রিকেট (Cricket) তাঁর জীবন যেমন রক্ষা করেছে, তেমনই বারবার তাকে ছুড়ে ফেলেছে একাকীত্বের দিকে। অভিজ্ঞতার কথা বলতে বলতে তিনি জানান, ক্রিকেট এসে থেমেও যায় তাঁর জীবনে পরে ছেলেকে তৈরি করলেন, সে খেলল, তারপর সেও তাঁর জীবনে এগিয়ে গেল। আবার বিয়ে করলেও দুই সন্তান আমেরিকায় চলে গেছে। শেষে কয়েকটা সিনেমায় অভিনয় করলেন। তাও কিছু হল না। আবার একই জায়গায় ফিরে এসেছেন।
৮০-র দশকের শুরুতে ভারতের হয়ে এক টেস্ট (Test Match) ও ছয়টি ওয়ানডে (One Day) খেলেছিলেন যোগরাজ। ফিটনেস, গতি আর আগ্রাসনের জন্য তিনি ছিলেন উত্তর ভারতের পেস সার্কিটে এক উল্লেখযোগ্য নাম। পরে একই তীব্রতা নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন যুবরাজ সিংকে, যিনি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি।
সেই কঠোর অনুশীলন, দীর্ঘ সেশন, বারংবার শারীরিক প্রস্তুতি - সবকিছুর মধ্যেই ছিল যোগরাজের দৃঢ় মানসিকতা। আজও পাঞ্জাব ও চণ্ডীগড়ের নেট সেশনে তাঁকে দেখা যায় তরুণ পেসারদের বোলিং অ্যাকশন ঠিক করতে, কঠিন নির্দেশ দিতে, আর একটা শব্দ উচ্চারণ করতে - খেলে যাও মন দিয়ে! কিন্তু মনে মনে হয়তো তিনি নিজের জীবনের খেলাই থামিয়ে দিতে চান।