শাহিন সাইদ তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ছ’মাস আগে তিনি বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগে আসেন। দাবি, তিনি নাকি জানতেনই না এই গ্রুপের আসল উদ্দেশ্য কী। তবে আপাতত যে তদন্ত চলছে তাতে এও উঠে এসেছে, শাহিন ‘ম্যাডাম সার্জন’ নামে পরিচিত ছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 November 2025 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার ফরিদাবাদে (Haryana Faridabad) যে ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউলটি (White Collar Terror Module) ধরা পড়েছে, তারা টেলিগ্রামে (Telegram) একে অপরের সঙ্গে কথা বলত সাধারণ খাবারের নাম দিয়ে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চ্যাটে ‘বিরিয়ানি’ (Biryani) মানে ছিল বিস্ফোরক, আর ‘দাওয়াত’ (Dawaat) মানে আসন্ন হামলা।
চিকিৎসা (Doctor) পেশার সঙ্গে যুক্ত চারজন - মুজামিল শাকিল, উমা উন নবি, শাহিন সাইদ এবং আদিল আহমেদ রাথর নাকি বহুদিন ধরেই এই কোডওয়ার্ড (Code Word) ব্যবহার করে বিস্ফোরণ-পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা-অনুমোদন ইতিমধ্যে বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে তাঁরা আর “ডাক্তার” পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন না।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্র বলছে, টেলিগ্রামে হদিশ মিলেছে একটি বার্তার - Biryani is ready, get ready for daawat. অর্থাৎ, বিস্ফোরক তৈরি, এখন হামলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, মডিউলটির মূলশক্তি হলেন কাশ্মীরের (Jamuu Kashmir) শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা ও ইমাম ইরফান আহমদ। ২০২০ সালে তিনি ছেলের চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে গিয়ে প্রথমবারের মতো দেখেন উমা উন নবিকে - যিনি পরে দিল্লির লালকেল্লা–সংলগ্ন বিস্ফোরণের ‘সুইসাইড বম্বার’ (Suicide Bomber) হিসেবে চিহ্নিত হন।
চিকিৎসার অজুহাতে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ চলতে থাকে। ইমামের চরমপন্থী মতাদর্শে আকৃষ্ট হয়ে নবি ধীরে ধীরে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হন। পরে আরও কয়েকজন চিকিৎসককে 'সম্ভাবনাময়' বলে চিহ্নিত করে তাঁদের ইমামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন নবি।
সূত্রের দাবি, ইরফান আহমদই একসময় এই চার চিকিৎসকের গোপন বৈঠক করিয়ে দেন পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) সদস্যদের সঙ্গে। ওই বৈঠকের পরই মডিউলের হাতে আসে দুটি একে সিরিজের অ্যাসল্ট রাইফেল। পরে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি অস্ত্রই উদ্ধার হয়েছে - একটি শাহিন সাঈদের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে।
শাহিন সাইদ তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ছ’মাস আগে তিনি বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগে আসেন। দাবি, তিনি নাকি জানতেনই না এই গ্রুপের আসল উদ্দেশ্য কী।
তবে আপাতত যে তদন্ত চলছে তাতে এও উঠে এসেছে, শাহিন ‘ম্যাডাম সার্জন’ (Madam Surgeon) নামে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং কল রেকর্ড ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সাঙ্কেতিক শব্দে বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা হত ‘ম্যাডাম সার্জন’-এর। তাঁদের মধ্যে ‘ম্যাডাম এক্স’ (Madam X) এবং ‘ম্যাডাম জেড’ (Madam Z) নামে দুই অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার নাম উদ্ধার করা গেছে। এদের সঙ্গে ফোনে নিয়মিত কথা হত শাহিনের।
এনআইএ রবিবার আরও এক অভিযুক্ত - আমির রশিদ আলিকে গ্রেফতার করেছে। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি নবি-র ব্যবহৃত বিস্ফোরকভর্তি হুন্ডাই আই–২০ গাড়িটি কিনেছিলেন। তদন্ত বলছে, আইইডি প্রস্তুত করতেও তিনি নবিকে সাহায্য করেছিলেন।
যে আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকরা কাজ করতেন, সেটিও এখন তদন্তের আওতায়। আর্থিক অনিয়ম থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ত্রুটি, সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।