দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ মামলায় বড় সাফল্য। আত্মঘাতী হামলাকারী উমর উন নবিকে গাড়ি জোগাড় করতে ও হামলা পরিকল্পনায় সাহায্য করেছিলেন কাশ্মীরের আমির। গ্রেফতার করল এনআইএ।

আমির ও উমর
শেষ আপডেট: 17 November 2025 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে বড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। আত্মঘাতী হামলাকারী ডাঃ উমর উন নবিকে হামলা চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন কাশ্মীরি যুবক আমির। এবার তাঁকে গ্রেফতার করলেন তদন্তকারীরা। তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি আমিরের নামে রেজিস্টার ছিল এবং তিনিই উমরকে দিল্লিতে এসে সেই গাড়ি জোগাড় করতে সাহায্য করেছিলেন।
NIA-র দাবি, আমির ও উমর একসঙ্গে চক্রান্ত করে লালকেল্লা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেন। উমর ছিল ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক। দু’জনের ভূমিকা ছিল পরিকল্পনা, লজিস্টিক সরবরাহ এবং বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির ব্যবস্থাপনায়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার দগ্ধ দেহাংশের ফরেনসিক বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয়েছে, সেটি উমর উন নবিরই অর্থাৎ সে-ই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি চালাচ্ছিল এবং ঘটনাস্থলে মারা যায়। বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং জখম একাধিক।
এনআইএ আরও একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে, যা উমরের নামে ছিল। সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য গেছে, অতিরিক্ত প্রমাণ সেখান থেকেও সংগ্রহ করা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বহু-রাজ্যে অভিযান, ৭৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি সংগ্রহ
এই মামলায় এনআইএ এখন পর্যন্ত ৭৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিস্ফোরণে আহত কয়েকজন। বিস্ফোরণের নেপথ্যের সমস্ত যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে বহু-রাজ্যে অভিযান চালাচ্ছে সংস্থা।
তদন্তে সহায়তা করছে দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকটি সংস্থা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইঙ্গিত মিলেছে যে চক্রান্ত শুধুমাত্র উমর-আমিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, আরও কয়েকজনের হাতও থাকতে পারে।
এনআইএ-র এক কর্মকর্তা এনিয়ে বলেন, 'এখন মূল লক্ষ্য হামলার বড় নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করা। পরিকল্পনায় কারা ছিল, কারা লজিস্টিক জোগাড় করেছে এবং কারা টাকা দিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'তদন্ত এগোতে থাকায় আরও কয়েকটি গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে।'
লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণ-পরবর্তী উদ্ধার, ফরেনসিক ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে যে হামলাটি একটি সুপরিকল্পিত আন্তঃরাজ্য চক্রান্তের ফল। সংস্থার লক্ষ্য, এই চক্রের প্রত্যেক সদস্যকে চিহ্নিত করে আদালতে তুলে ধরা।