এনআইএ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক উমর উন-নবির সঙ্গে এই চার জনের অতীতে পরিচয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল, এমন প্রমাণ মেলেনি। তাই তাঁদের হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই।
.jpg.webp)
দিল্লি বিস্ফোরণ (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 17 November 2025 01:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) পর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA) সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে একটানা বহু জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। সেই অভিযানের মধ্যেই আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন চিকিৎসক ও পড়ুয়াকে আটক করা হয়েছিল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে তদন্তকারীরা জানিয়ে দিয়েছে, বিস্ফোরণকাণ্ডে তাদের কোনও সরাসরি ভূমিকা পাওয়া যায়নি। ফলে চার জনকে রবিবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এনআইএ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক উমর উন-নবির সঙ্গে এই চার জনের অতীতে পরিচয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাই তাদের হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই।
ছাড়া পাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন জাহান নিশার আলম, রেহান, মহম্মদ এবং মুস্তাকিম। নিশার আলমকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর থেকে ধরা হয়েছিল। পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি পৈতৃক বাড়িতে এসেছিলেন। শুক্রবার ভোরে সেখান থেকেই তাকে আটক করে তদন্তকারী গোয়েন্দারা (Delhi blast probe)। বাকিরা নুহ্ এলাকায় ছিলেন।
নিশারের পরিবারের দাবি, প্রথমে তাকে ইসলামপুরে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে শিলিগুড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা তার ফোন বাজেয়াপ্ত করেছেন। প্রয়োজনে তাকে আবার তলব করা হতে পারে। তবে আপাতত সে এবং বাকিরা মুক্ত।
এনআইএ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তদন্তকারীরা প্রথমে সন্দেহ করেন, উমর উন-নবির সঙ্গে এই চিকিৎসকরা হয়তো যুক্ত ছিলেন। কারণ, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এছাড়া আরও দুই চিকিৎসক, মুজাম্মিল আহমেদ এবং শাহিনকেও আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরই আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
অভিযুক্ত উমর ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারির পরই বিস্ফোরণে ব্যবহৃত রাসায়নিকের উৎস খুঁজতে সার বিক্রেতাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তদন্তকারীরা পরে বুঝতে পারেন, যাদের ধরা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনও পাকা তথ্য নেই। তাই সার ব্যবসায়ী দীনেশ সিংলাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় সাদা রঙের একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। ঘটনাটির পর থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধে যে, পরিকল্পনা খুব নিখুঁতভাবে করা হয়েছিল। তাই তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন। যাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের ওপর নজরদারি আপাতত বজায় থাকবে।
দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে প্রকৃত সত্য কী- তা জানতে এখনও তৎপর এনআইএ। তবে এই চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ টিকল না বলেই জানাল সংস্থা।