সাংবাদিকের ট্যাকটিক্যাল প্রশ্নে হাসতে হাসতে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হওয়ার প্রস্তাব দিলেন পেপ গুয়ার্দিওলা। ম্যান সিটির কোচের মন্তব্যে সরগরম ফুটবল দুনিয়া।

পেপ গুয়ার্দিওলা
শেষ আপডেট: 13 February 2026 23:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণত সাংবাদিক বৈঠকে পেপ গুয়ার্দিওলা (Pep Guardiola) খুব একটা হাসিখুশি মুডে থাকেন না। ছোট উত্তর, কখনও ব্যঙ্গ, কখনও বিরক্তি—এটাই চেনা ছবি। কিন্তু আজ, প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে দেখা গেল একেবারে অন্য গুয়ার্দিওলাকে। এক সাংবাদিকের গভীর, বুদ্ধিদীপ্ত ও ‘ট্যাকটিক্যাল’ প্রশ্ন শুনে হেসে উঠলেন ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) ম্যানেজার। এমনকি মজা করে প্রস্তাবও দিয়ে ফেললেন—‘আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট হবে নাকি?’
২০ বছর আগের লেখা টেনে প্রশ্ন
ঘটনার কেন্দ্রে সাংবাদিক উমির ইরফান (Umir Irfan)। অন্যরা যেখানে চোট-আঘাত বা ট্রান্সফার নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন, সেখানে ইরফান টেনে আনলেন গুয়ার্দিওলার ২০০৬ সালে লেখা একটি পুরনো কলাম। যেখানে স্পেন বনাম তিউনিশিয়া ম্যাচের ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণ করেছিলেন গুয়ার্দিওলা। ইরফান সেই সমালোচনার সূত্রে বর্তমান ম্যান সিটির আক্রমণভাগ সাজানোর কৌশলের মিল মেলে ধরেন। বিশেষ করে ফিল ফোডেন (Phil Foden) ও জেরেমি ডোকুর (Jeremy Doku) ‘হাফ-স্পেস’ ব্যবহার, মাঝমাঠে ভিড় এড়ানো এবং আক্রমণের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে দৃষ্টান্তমূলক সাযুজ্য রয়েছে—তা ফোকাসে আনতে চান।
প্রশ্ন যত এগোয়, ততই চুপ মেরে যায় হলরুম। গুয়ার্দিওলাও চেয়ারে হেলান দিয়ে বসা ভঙ্গি ছেড়ে সামনে ঝুঁকে পড়েন। চোখে ভরপুর বিস্ময়, মুখে অবাক করা হাসি।
‘ইউ আর টপ!’
ইরফান প্রশ্ন শেষ করার আগেই গুয়ার্দিওলা হেসে ফেলেন৷ তারপর বলে বসেন, ‘তুমি কি আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ হতে চাও? অবিশ্বাস্য! তুমি দারুণ! তুমি টপ!’ এই মন্তব্য শুধু মজা নয়, ছিল এক ধরনের স্বীকৃতিও। ট্যাকটিক্স নিয়ে গভীর আলোচনা কানে এনে গুয়ার্দিওলা বরাবরই উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। আজও তার অন্যথা হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই ক্লিপ। ফুটবলপ্রেমীরা কুর্নিশ জানান সাংবাদিককে, আর অতি অবশ্যই ‘হ্যাপি পেপ’কেও!
বিরল স্বীকৃতি
বর্তমানে গুয়ার্দিওলার কোচিং টিমে রয়েছেন পেপেইন লাইন্ডার্স (Pepijn Lijnders) ও কোলো তুরে-র (Kolo Toure) মতো মস্তিষ্ক। সেখানে যে কারও জায়গা পাওয়া সহজ নয়। কিন্তু উমির ইরফান, যিনি বিবিসি-র (BBC) হয়ে ফুটবলের ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণ লেখেন, তিনিও কম যান না। দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবল মহলের একাংশের কাছে পরিচিত নাম। কিন্তু প্রজন্মের অন্যতম সেরা কৌশলী কোচের প্রকাশ্যে প্রশংসা—এর তুলনা মেলা ভার। প্রিমিয়ার লিগের কোটি কোটি টাকার দুনিয়ায়, যেখানে প্রায়ই চটকদার শিরোনাম আর উত্তেজনা জায়গা দখল করে নেয়, সেখানে এই ৬০ সেকেন্ডের কথোপকথন মনে করিয়ে দিল—খেলার মূলে এখনও রয়েছে খেলার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা। আর এটাই হয়তো ফুটবলের আসল সৌন্দর্য।