বিস্ময়ে চোখ বড় হয়ে যায় সুয়ারেজের, তারপর ঠোঁটে ফুটে ওঠে হাসি। ছোট্ট সেই মুহূর্তই হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

সুয়ারেজকে নাটমেগ করার মুহূর্ত।
শেষ আপডেট: 15 December 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম (Wankhede Stadium) তখন কানায় কানায় ভর্তি। ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর দ্বিতীয় দিনে লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) এক ঝলক দেখতেই হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। গ্যালারির প্রতিটি আসন পূর্ণ, মোবাইল ফোন উঁচিয়ে ধরা— চার দিকে উন্মাদনা। সেই ভিড়ের মাঝেই ৬০ জন খুদে ফুটবলারের জন্য তৈরি হয়েছিল জীবনের এক অনন্য মুহূর্ত, খোদ মেসির সঙ্গে একই মাঠে বল খেলার সুযোগ (Messi India Tour)।
আর সেই ঐতিহাসিক সন্ধ্যায় সবচেয়ে আলোচিত ১৩ বছরের তনিশকা কাওয়াড়ে। মেসির (Messi In Mumbai) সামনে বল পাসিংয়ের সময় আচমকাই সে নাটমেগ (দু' পায়ের ফাঁকা দিয়ে বল গলিয়ে দেওয়া) করে বসে লুইস সুয়ারেজকে (Luis Suarez)। উরুগুয়ের তারকা ফরোয়ার্ড, মেসির সতীর্থ মুহূর্তের জন্য হাঁ হয়ে যান। বিস্ময়ে চোখ বড় হয়ে যায় সুয়ারেজের, তারপর ঠোঁটে ফুটে ওঠে হাসি। ছোট্ট সেই মুহূর্তই হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
পরে তনিশকা জানায়, “ও কিছু বলেনি। শুধু বিস্মিত চোখে তাকিয়ে ছিল। আমার খুব ভাল লেগেছে। স্বপ্ন ছিল রোনাল্ডোর সঙ্গে দেখা করার, কিন্তু মেসির সঙ্গে দেখা হয়ে গেল, এটাই অনেক বড় স্বপ্নপূরণ।” পরে মেসির সঙ্গে দেখা হলে, নিজের হাতে লেখা মেসির নাম দেখায় সে। যা দেখে হেসে ফেলেন মেসিও।
শুধু তনিশকাই নয়, ১৩ বছরের নিশকা নায়ার মেসিকে মাঠে নামতে দেখেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। তার কথায়, “আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। কখনও ভাবিনি সামনাসামনি মেসিকে দেখতে পাব। স্বপ্নের মতো লাগছিল।” মেসির সঙ্গে হ্যান্ডশেক, দু’-একটা কথা, শেষে একসঙ্গে ছবি, সব মিলিয়ে নিশকার কাছে তা আজীবনের স্মৃতি।
মিশতা অরুণের অভিজ্ঞতাও কম নয়। মেসিকে সামনে দেখে সে-ও বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে হ্যান্ডশেক করে, বলও পাস করেছ। মিশতার যেন এসব কিছুই বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ছোট্ট এক মুহূর্তের কথাও মনে গেঁথে রয়েছে তার। সে জানিয়েছে, “আমি যখন লিওকে বললাম ‘ওলা মেসি’, উনিও একইভাবে জবাব দিয়েছিলেন।”
এই ৬০ জন খুদে ফুটবলারই ‘প্রজেক্ট মহাদেব’ নামে একটি তৃণমূল স্তরের ফুটবল প্রকল্পের অংশ। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মেসির উপস্থিতিতেই এই প্রকল্পের সূচনা করেন। আগামী পাঁচ বছর ধরে কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে স্কলারশিপ পাবে নির্বাচিত পড়ুয়ারা।
প্রজেক্টের টেকনিক্যাল প্রধান জেডি আলমেইদা বলেন, “এই মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করে এখানে এসেছে। আজ তারা বুঝেছে, পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি। অভিভাবকেরা ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, কিন্তু আসলে ধন্যবাদ প্রাপ্য এই ছোটদেরই।”
মহারাষ্ট্রের নানা জেলা, যবতমাল, গড়চিরোলি, নন্দুরবার, চন্দ্রপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকাতেও ঘুরে প্রতিভা খুঁজেছেন স্কাউটরা। উদ্দেশ্য একটাই— রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে প্রতিভাকে তুলে আনা।