শুক্রবার ভোররাতে কলকাতায় পা রাখেন মেসি। শনিবার সকালে যান যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটে যুবভারতীতে হাজির হন মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায়।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 14 December 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় ঠিক যতটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার উল্টো ছবি শনিবার হায়দরাবাদে (Hyderabad) এবং রবিবার মুম্বইয়ে দেখা গেল। কোনওরকম অশান্তি, অভিযোগ ছাড়াই মিটল মেসির দুই শহরের সফর (Messi GOAT Tour)। এদিন বিকেলে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (Wankhede Stadium) এসে পৌঁছন লিওনেল মেসি (Leonel Messi)। স্বচ্ছন্দে অনুষ্ঠান চলে, তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে বল নিয়ে পা মেলান তিন আন্তর্জাতিক তারকা। সময় মেনে নির্বিঘ্নে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
এদিন ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মেসিদের উদ্দেশে বলেন, "আমাদের দেশে আসার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আপনাদের সঙ্গে এই সময় আমরা দারুণ উপভোগ করেছি। প্রত্যেক ভারতীয়র পক্ষ থেকে বলতে চাই, আপনারা যতবার আমাদের দেশে আসবেন, আমরা প্রমাণ করব আতিথেয়তা কাকে বলে।"
এরপরই শুরু হয়েছে কলকাতার সঙ্গে তুলনা টেনে সমালোচনা। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই মনে করছেন, নাম না করে কলকাতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে বিজেপি-জোট শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুম্বই দেখিয়ে দিল কীভাবে মেসি, সুয়ারেজ, রদ্রিগো ডি পলের মতো তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। এই নিয়ে তর্ক-বিতর্কের রেশ আগামী কয়েকদিন চলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার ভোররাতে কলকাতায় পা রাখেন মেসি। শনিবার সকালে যান যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuva Bharati Krirangan)। হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটে যুবভারতীতে হাজির হন মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায়। মেসির মাঠে উপস্থিতি ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের। নির্ধারিত স্টেডিয়াম ল্যাপও সম্পন্ন হয়নি। এর পরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গ্যালারি থেকে মাঠে নামেন দর্শকদের একাংশ। চেয়ার, বোতল ছোড়া, ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। শেষ পর্যন্ত মেসিকে দ্রুত স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়।
সেইসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ছিলেন মাঝ রাস্তায়। যুবভারতীতে পৌঁছানোর আগেই মাঝ রাস্তা থেকে ফিরে যেতে হয় তাঁকে। চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য প্রকাশ্যে মেসির কাছে ক্ষমা চান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আয়োজকদের দায়ী করলেও বিরোধী দলগুলি আক্রমণ শানিয়েছে শাসক দল তৃণমূলকে এবং প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malviya) দাবি করেছেন, এই ঘটনা বাংলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে চরম লজ্জায় ফেলল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বেই রাজ্যের ‘আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’ হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বিবিসি (BBC), দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian), স্পেনের মার্কা (Marca) থেকে ফ্রান্সের লাঁ’ ইকুইপা (L’Equipe)—প্রায় সব প্রথম সারির ক্রীড়া ও সংবাদমাধ্যমই আলাদা আলাদা প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে যুবভারতীর তণ্ডবের ছবি। কোথাও ‘চেয়ার উড়ে যাওয়া’, কোথাও ‘ক্ষুব্ধ সমর্থকদের প্রতিবাদ’, আবার কোথাও ‘মিসম্যানেজমেন্ট’-এর কড়া সমালোচনা। সুর সর্বত্র কড়া!
কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে টিকিট কেটে যাঁরা মেসিকে একটা বার দেখার আশায় এলেন, তাঁরাই প্রিয় ফুটবলারের টিকিটিও দেখতে পেলেন না। লাভের গুড় পিঁপড়েয় খেয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার। মানুষের রাগটা সেখানেই। আর সেই রাগ-রগড়েরই বন্যা বয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
মেসিকে একঝলক দেখার আশায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার সমর্থক। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের অধিকাংশেরই প্রিয় ফুটবলারকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। গ্যালারিতে বসে জায়ান্ট স্ক্রিনেই মেসিকে দেখতে হয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের। আর সেই হতাশা থেকেই স্টেডিয়াম থেকে টব, কার্পেট এমনকি গ্যালারির সিট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।