কলকাতা ‘অতীত’। হায়দরাবাদ, মুম্বই, দিল্লিরা ‘আগামী’। এটাই হয়তো নির্ভেজাল বাস্তব।
_0.jpeg.webp)
লিওনেল মেসি
শেষ আপডেট: 14 December 2025 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার যুবভারতীতে (Salt Lake Stadium) ক্ষোভের ধোঁয়া এখনও পুরোপুরি উধাও হয়নি। তুষের আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলছে। গ্যালারিতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’স্লোগান, আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন, মিসম্যানেজমেন্টের তকমা—সব মিলিয়ে প্রথম দিনের (Day 1) স্মৃতি পুরোটাই অস্বস্তির।
ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর ছবিটা বদলে গেল মুম্বইয়ে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (Wankhede Stadium) রবিবার সন্ধ্যায় লিওনেল মেসি (Lionel Messi) পা রাখতেই দর্শকদের নিনাদ বদলাল, আবহ পাল্টাল। ক্ষোভের বদলে মুম্বই গর্জে উঠল একটাই স্লোগানে: ‘ভিসকা বার্সা’ (Visca Barça)!
আজ বিকেল গড়াতেই ওয়াংখেড়ের বাইরে জনসমুদ্র। লোকাল ট্রেন থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের গেট—সর্বত্র আর্জেন্তিনা আর বার্সেলোনার (FC Barcelona) জার্সির ভিড়। মেসি মাঠে ঢোকার আগেই গ্যালারি গর্জে উঠছিল তাঁর নামে। ঠিক ৫টা ৫৩ নাগাদ প্রতীক্ষার অবসান। হাসিমুখে মাঠে নামলেন মেসি। সঙ্গে লুইস সুয়ারেজ (Luis Suarez) আর রদ্রিগো দি পল (Rodrigo De Paul)। মুহূর্তে স্টেডিয়াম জুড়ে আবেগের বিস্ফোরণ!
প্রথমে অল স্টার্স বনাম মিত্র স্টার্সের (All Stars vs Mitra Stars) প্রদর্শনী ম্যাচ। ভারতের ফুটবল আইকন সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri) ছিলেন আকর্ষণের কেন্দ্রে। যিনি হেডে প্রথম গোল করে গ্যালারিকে আরও তাতিয়ে দিলেন। বলিউড তারকাদের উপস্থিতি—টাইগার শ্রফ, দিনো মোরেয়া… সবই ছিলেন। কিন্তু আলোটা ছিল ফুটবলেই। মাঠের বাইরে তারকাখচিত আমেজ। ভিতরে দর্শকের মন ডুবেছিল খেলায়।
তারপর এল সেই মুহূর্ত, যার জন্য ওয়াংখেড়ে সারাদিন অপেক্ষায়! মেসি পেনাল্টি নিতে প্রস্তুত। চারদিক থেকে ‘ভিসকা বার্সা’ তর্জন, মোবাইল ক্যামেরার জঙ্গল। শত-সহস্র আবেগেও নির্বিকার মেসি। নিলেন মাপা শট, বল জালে! গ্যালারিতে উন্মাদনার ঢেউ। এরপর বল জাগলিং করে গ্যালারির দিকে শট—দ্বিতীয় তলার দর্শকদের জন্য উপহার। সুয়ারেজ আর দি পলও বল ছুড়লেন স্ট্যান্ডে। প্রত্যেক মুহূর্তে মেসি সময় নিয়ে পায়ে—হেঁটে দর্শকদের অভিবাদন জানালেন, থেমে থেমে হাত নেড়ে স্বীকৃতিও!
সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar) যখন মাঠে এলেন, তখন উচ্ছ্বাস নতুন মাত্রা পেল। ফুটবল আর ক্রিকেটের দুই ‘গোট’ (GOAT) এক ফ্রেমে—ওয়াংখেড়ের ঐতিহাসিক আবহ প্রস্তুত। ইনস্ট্যান্ট ক্লাসিক! সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ (Devendra Fadnavis), অভিনেতা অজয় দেবগণ, করিনা কাপুর খান—তাঁর সন্তানদের সঙ্গে মেসির সঙ্গে দেখা করার দৃশ্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত।
দিনের শুরুতে মেসি ছিলেন ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় (Cricket Club of India), প্যাডেল (Padel) ইভেন্টে। সেখান থেকে ওয়াংখেড়ে—পুরো মুম্বই যেন এক রুটে বয়ে চলছিল। পাশাপাশি ভেসে আসছিল দিল্লির (Delhi) প্রস্তুতির খবরও। আগামিকাল অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে (Arun Jaitley Stadium) শেষ অধ্যায়।
কলকাতার ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছিল—ভারতের মতো উন্মাদমুখর সমর্থকদের দেশে কি মেসি-ম্যানিয়া সামলানো যায়? ওয়াংখেড়ে অন্তত তার জবাব দিল। পরিকল্পিত আয়োজন, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ আর নিবিড় সংযোগ—সব মিলিয়ে মুম্বই দেখাল, কীভাবে ‘ক্ষোভের শহর’ নয়… আয়োজনকে ‘উল্লাসের মঞ্চে’ টেনে আনা যায়। যুবভারতীর ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’থেকে ওয়াংখেড়ের ‘ভিসকা বার্সা’—মেসি-ট্যুরের (Messi India Visit) এই বৈপরীত্যই হয়তো ভারতীয় ফুটবল-উন্মাদনার সরণের ছবি তুলে ধরে। কলকাতা ‘অতীত’। হায়দরাবাদ, মুম্বই, দিল্লিরা ‘আগামী’। এটাই হয়তো নির্ভেজাল বাস্তব।