কলকাতা সফরে (Messi in Kolkata) ভিড় ও বিশৃঙ্খলার অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। লীলা প্যালেস এবং আশপাশের এলাকা কার্যত একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
_0.jpg.webp)
মেসির দিল্লি সফর!
শেষ আপডেট: 15 December 2025 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত সফরের শেষ দিনে রাজধানী দিল্লিতে থাকবেন লিওনেল মেসি (Leonel Messi in India)। সোমবার দুপুরে দিল্লি পৌঁছানোর কথা তাঁর। মেসির এই স্বল্প সময়ের সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই চরম ব্যস্ততা! কোনওরকমের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এদিন বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে যাবেন লীলা প্যালেস হোটেলে (The Leela Palace)। মেসি ও তাঁর সফরসঙ্গীদের জন্য হোটেলের একটি ফ্লোর আগেভাগেই বুক করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আর্জেন্টিনা দলের সদস্যরা থাকবেন হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে। প্রতিটি স্যুটের ভাড়া নাকি রাতপিছু সাড়ে তিন লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত। মেসি সংক্রান্ত কোনও তথ্য যাতে কোনওভাবেই পাঁচকান না হয়ম সেজন্য হোটেল কর্মীদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা সফরে (Messi in Kolkata) ভিড় ও বিশৃঙ্খলার অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। লীলা প্যালেস এবং আশপাশের এলাকা কার্যত একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে।
হোটেলেই একটি 'মিট অ্যান্ড গ্রিট'-এর (Messi Meet and Greet) আয়োজন করা হয়। এই বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ পেতে কর্পোরেট ও ভিআইপি অতিথিদের মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, কয়েকটি সংস্থা নাকি মেসির সঙ্গে দেখা করার জন্য এক কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছে (Rs 1 Crore For Handshake in Delhi)। সূত্রের দাবি, কলকাতা সফরে মেসির সঙ্গে হাত মেলাতে যে টাকা দিতে হয়েছিল, দিল্লিতে খরচ করতে হচ্ছে তাঁর দশগুণ।
মেসির কলকাতা সফর (Messi in Kolkata) বাংলার বুকে একটি 'কালো দিন' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, এমনটাই দাবি করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
শুক্রবার ভোররাতে কলকাতায় পা রাখেন মেসি। শনিবার সকালে যান যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuva Bharati Krirangan)। হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটে যুবভারতীতে হাজির হন মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায়। মেসির মাঠে উপস্থিতি ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের। নির্ধারিত স্টেডিয়াম ল্যাপও সম্পন্ন হয়নি। এর পরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গ্যালারি থেকে মাঠে নামেন দর্শকদের একাংশ। চেয়ার, বোতল ছোড়া, ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। শেষ পর্যন্ত মেসিকে দ্রুত স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়।
সেইসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ছিলেন মাঝ রাস্তায়। যুবভারতীতে পৌঁছানোর আগেই মাঝ রাস্তা থেকে ফিরে যেতে হয় তাঁকে। চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য প্রকাশ্যে মেসির কাছে ক্ষমা চান তিনি।
বিবিসি (BBC), দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian), স্পেনের মার্কা (Marca) থেকে ফ্রান্সের লাঁ’ ইকুইপা (L’Equipe)—প্রায় সব প্রথম সারির ক্রীড়া ও সংবাদমাধ্যমই আলাদা আলাদা প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে যুবভারতীর তণ্ডবের ছবি। কোথাও ‘চেয়ার উড়ে যাওয়া’, কোথাও ‘ক্ষুব্ধ সমর্থকদের প্রতিবাদ’, আবার কোথাও ‘মিসম্যানেজমেন্ট’-এর কড়া সমালোচনা। সুর সর্বত্র কড়া!
যুবভারতীতে গ্যালারিতে বসে জায়ান্ট স্ক্রিনেই মেসিকে দেখতে হয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের। আর সেই হতাশা থেকেই স্টেডিয়াম থেকে টব, কার্পেট এমনকি গ্যালারির সিট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।