হাসিন জাহানের দায়ের করা এক পিটিশনের প্রেক্ষিতে ওই নোটিস জারি করা হয়েছে। সেই মামলায় হাসিন জাহান মাসিক ভরণপোষণ বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন — যা নিয়ে আদালতে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মহম্মদ শামি- হাসিন জাহান।
শেষ আপডেট: 7 November 2025 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় পেসার মহম্মদ শামি (Mohammed Shami ) ও তাঁর স্ত্রী হাসিন জাহানের (Hasin Jahan) মধ্যে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এবার নতুন মোড়। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও শামির উদ্দেশে নোটিস (Notice) জারি করেছে। হাসিন জাহানের দায়ের করা এক পিটিশনের প্রেক্ষিতে ওই নোটিস জারি করা হয়েছে। সেই মামলায় হাসিন জাহান মাসিক ভরণপোষণ বৃদ্ধির (increase in monthly maintenance) দাবি তুলেছেন — যা নিয়ে আদালতে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিষয়টি কী নিয়ে?
হাসিন জাহান কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) এক নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান। হাই কোর্ট আগেই মাসিক ভরণপোষণ বাবদ ১.৫ লক্ষ টাকা তাঁর জন্য এবং ২.৫ লক্ষ টাকা তাঁদের মেয়ের জন্য ধার্য করেছিল। অর্থাৎ মোট ৪ লক্ষ টাকা প্রতি মাসে। কিন্তু হাসিন জাহান দাবি করেছেন, এই টাকার অঙ্ক শামির আর্থিক সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার তুলনায় অনেকটাই কম। তাঁর যুক্তি, শামি একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, বিপুল আয় করেন, দামি সম্পত্তি ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিক, নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন। তাই মেয়ের ভবিষ্যৎ ও জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে ভরণপোষণের অঙ্ক বৃদ্ধি প্রয়োজন।
সুপ্রিম কোর্টে কী ঘটল?
শুক্রবার শুনানিতে বিচারপতির বেঞ্চ হাসিনের এই বাড়তি টাকার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বেঞ্চ সরাসরি বলে — “মাসে ৪ লক্ষ টাকা কি কম টাকা নাকি?” তবুও আদালত হাসিন জাহানের আবেদন শুনে মহম্মদ শামি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার— দুই পক্ষকেই নোটিস পাঠায়। তাঁদের চার সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ডিসেম্বর মাসে হওয়ার কথা।
হাসিনের আইনজীবীর যুক্তি
হাসিন জাহানের আইনজীবী আদালতে বলেন, “শামি দেশের অন্যতম সফল ও উচ্চ আয়ের ক্রিকেটার। তাঁর আয় ও সম্পত্তির পরিমাণ কোটি টাকায়। এমন অবস্থায় স্ত্রী ও কন্যার জন্য মাসে ৪ লক্ষ টাকা কোনওভাবেই যথেষ্ট নয়।” তাঁর দাবি, শামির সামাজিক জীবন ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মেয়েরও বেড়ে ওঠা উচিত। “মেয়েটির অধিকার রয়েছে বাবার সহকর্মীদের সন্তানদের মতোই শিক্ষা ও সামাজিক পরিসরে বেড়ে ওঠার।” এছাড়াও অভিযোগ করা হয়, শামি একাধিক মাস ধরে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট ভরণপোষণের টাকা দেননি।
২০১৮ থেকে আইনি টানাপোড়েন
২০১৮ সালে হাসিন জাহান প্রথমবার প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন— গার্হস্থ্য হিংসা, আর্থিক প্রতারণা ও মানসিক নির্যাতনের। এরপর থেকেই শুরু হয় শামি–হাসিনের দীর্ঘ আইনি লড়াই। সেই থেকে একাধিক আদালতে মামলা চলছে, এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও জটিল আকার নিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট এখন দুই পক্ষের জবাবের অপেক্ষায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও শামি তাঁদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কী জানান, তার ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী শুনানির দিকনির্দেশ। ডিসেম্বরে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। আদালতের পরবর্তী রায়ই নির্ধারণ করবে, হাসিন জাহান ও তাঁদের কন্যার মাসিক ভরণপোষণ বাড়বে কি না।