বাংলাদেশ মেয়েদের ক্রিকেটের ইতিহাসে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় যৌন হেনস্তার অভিযোগ। ঘটনা যদি সত্যি হয়, তাহলে জাহানারার এভাবে সাহসী কায়দায় প্রকাশ্যে আসা হয়তো পথ দেখাবে অন্যদের—যাঁরা এতদিন চুপ করে সহ্য করছিলেন।

জাহানারা আলম
শেষ আপডেট: 7 November 2025 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর চুপ করে থাকা নয়, অবশেষে মুখ খুললেন বাংলাদেশের পেসার জাহানারা আলম (Jahanara Alam)। অভিযোগের তির সরাসরি প্রাক্তন নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের (Manjurul Islam) দিকে। তা ছাড়া ২০২২ সালের মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে (Women’s ODI World Cup) টিম ম্যানেজমেন্টের একাধিক সদস্যের কাছ থেকে অশালীন প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলেও মারাত্মক দাবি জাহানারার।
রিয়াসাত আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একবার নয়, বহুবার জঘন্য অফার পেয়েছি। তখন বলিনি কারণ টিমের সঙ্গে যুক্ত থাকলে অনেক জিনিসই মুখে আনা যায় না। জীবিকা, সম্মান—সব কিছু জড়িয়ে থাকে। ফলে প্রতিবাদ করতে চাইলেও অনেক সময় চেপে যেতে হয়।’
জাহানারার দাবি, বিষয়টি তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) একাধিক শীর্ষকর্তাকে জানিয়েছেন—মেয়েদের ক্রিকেট কমিটির প্রধান নাদেল চৌধুরী (Nadel Chowdhury) ও প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীর (Nizamuddin Chowdhury) কাছেও গিয়েছিলেন। তবু পরিস্থিতি বদলায়নি।
পেসারের কথায়, ‘২০২১ সালে তৌহিদ ভাই (Towhid Bhai) কো–অর্ডিনেটর বাবু ভাইয়ের (Sarfaraz Babu) মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। আমি ভদ্রভাবে এড়িয়ে যাই। পরের দিন থেকেই মঞ্জু ভাইয়ের (Manjurul) আচরণ পালটে যায়, অপমান করতে শুরু করেন। আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়েছে!’
জাহানারা আরও জানান, ২০২২ বিশ্বকাপ চলাকালীন ফের মঞ্জুরুল তাঁকে প্রস্তাব দেন। বারবার জানানো সত্ত্বেও বোর্ড নীরব থাকে। ওই সময়ই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর প্রতি আচরণ শুধু অশালীন নয়, শারীরিক সীমা লঙ্ঘনেরও চেষ্টা চলেছে।
‘প্রি–ক্যাম্পের সময় বল করছিলাম, মঞ্জুভাই এসে কাঁধে হাত রাখলেন। ওঁর অভ্যাস ছিল মেয়েদের কাছে টেনে বুকে চেপে ধরে কথা বলা। আমরা দূর থেকে হাত বাড়িয়ে দিতাম, যাতে ওঁর হাত না লাগে। নিজেদের মধ্যে মজা করে বলতাম, “উনি এলেন, আবার জড়িয়ে ধরবেন!’’’—মন্তব্য জাহানারার।
সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনার বর্ণনাও দেন তিনি। বলেন, ‘একদিন হঠাৎ কাছে এসে হাত ধরলেন, কাঁধে হাত রাখলেন আর কানে কানে বললেন, “তোমার পিরিয়ড কতদিন হল?” ফিজিওদের কাছে এই তথ্য থাকে। কিন্তু একজন ম্যানেজার বা নির্বাচকের জানার কী দরকার? আমি জানালাম, পাঁচ দিন। উনি বললেন, “শেষ হলে জানিও, আমাকেও নিজের দিকটা দেখতে হয়।”আমি শুধু বলেছিলাম—“দুঃখিত ভাইয়া, বুঝিনি!”’
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মঞ্জুরুল। তাঁর বক্তব্য, ‘পুরোটাই মিথ্যে। অন্য ক্রিকেটারদের জিজ্ঞেস করুন, আমি কেমন আচরণ করতাম!’ অন্যদিকে কো–অর্ডিনেটর বাবুও সুরে সুর মিলিয়ে বলছেন, ‘এই গল্প সম্পূর্ণ মনগড়া।’বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গোটা ইস্যুকে হালকাভাবে নেয়নি। ভাইস প্রেসিডেন্ট শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আমরা দ্রুত বৈঠক করব এবং প্রয়োজনে তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে!’
বাংলাদেশ মেয়েদের ক্রিকেটের ইতিহাসে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় যৌন হেনস্তার অভিযোগ। ঘটনা যদি সত্যি হয়, তাহলে জাহানারার এভাবে সাহসী কায়দায় প্রকাশ্যে আসা হয়তো পথ দেখাবে অন্যদের—যাঁরা এতদিন চুপ করে সহ্য করছিলেন।