সময়টা বিশেষ ভাল যাচ্ছে না ভারতীয় ক্রিকেট দলের। শুভমান গিলের (Shubman Gill) ঘাড়ের চোট নিয়ে ভাবনা বেড়েছে দলের। সিরিজে কি থাকতে পারবেন তিনি?

শুভমানের ঘাড়ের চোট নিয়ে চিন্তায় দল
শেষ আপডেট: 15 November 2025 23:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়টা বিশেষ ভাল যাচ্ছে না ভারতীয় ক্রিকেট দলের (Indian Cricket Team)। কিছুদিন আগেই শ্রেয়স আইয়ারের (Shreyas Iyer) চোট নিয়ে একপ্রস্থ চিন্তার ঝড় গিয়েছে। এবার টেস্ট ক্রিকেটের ক্যাপ্টেন (Indian Test cricket captain) শুভমান গিলের (Shubman Gill) ঘাড়ের চোট নিয়ে ভাবনা বেড়েছে দলের। সিরিজে কি থাকতে পারবেন শুভমান?
ঘাড় ও মেরুদণ্ডে তীব্র ব্যথা (Shubman Gill neck injury) অনুভব করায় ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিলকে শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি দেখে চিকিৎসকেরা রাতে তাঁকে হাসপাতালেই রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমান অবস্থায় প্রথম টেস্টে তাঁর আর মাঠে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই শুভমন ঘাড়ে প্রবল ব্যথা টের পান। ব্যথা কমানোর ওষুধেও কাজ না হওয়ায় ব্যাটিংয়ের আগেও আবার ওষুধ নিয়েছিলেন তিনি। ক্রিজে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাইমন হারমারের বিরুদ্ধে শট খেলতে গিয়ে ব্যথা আরও বাড়ে। মাঠে ফিজিও এসে পরীক্ষার পর তাঁকে দ্রুত ড্রেসিং রুমে ফিরিয়ে নিয়ে যান। মাত্র তিনটি বল খেলেই তাঁকে ম্যাচ থেকে বেরোতে হয়। ঘাড় ঘোরানো পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। মেরুদণ্ডেও সমস্যার ইঙ্গিত মিলেছে।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর এমআরআই করা হয়। রিপোর্টে ঘাড়ের ‘স্টিফনেস’ বা শক্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ঠিক এক বছর আগেও একই ধরনের চোট পেয়েছিলেন শুভমন, তখনকার এমআরআইয়ের সঙ্গে এবারকার ফলাফলেও মিল রয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বয়স কম থাকার কারণে শুভমানের ‘পেন থ্রেশহোল্ড’ বা ব্যথা সহ্যক্ষমতা বেশি। তা সত্ত্বেও এবার ব্যথার মাত্রা এত তীব্র যে তাঁকে দলের হোটেলে ফিরতে দেওয়ার ঝুঁকি নেননি বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসক ও ভারতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাতটা তাঁকে হাসপাতালেই রাখতে হয়।
এদিকে শুরুতে সিএবি ডাক্তার না পাওয়ার বিষয় নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়। বোর্ডের চিকিৎসক চার্লস মিনজ় নাকি প্রথমে পরিস্থিতিকে ততটা গুরুত্ব দেননি বলেও খবর। পরে বোঝা যায় চোটটি আরও জটিল। এই অবস্থায় ইডেন টেস্টে তাঁর খেলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে গুয়াহাটি টেস্টেও তাঁকে পাওয়া নাও যেতে পারে, জানিয়েছে বোর্ডের একটি সূত্র।
ঘটনার পরে বিসিসিআই দুপুরে বিবৃতি দিয়ে জানায়, “শুভমান গিলের ‘নেক স্টিফনেস’ হয়েছে। মেডিক্যাল টিম নিয়মিত নজর রাখছে। তাঁর মাঠে ফেরা পুরোপুরি নির্ভর করছে শারীরিক অবস্থার উন্নতির উপর।”
দিনের খেলা চলাকালীন ওয়াশিংটন সুন্দর আউট হওয়ার পর চার নম্বরে নামেন শুভমান। ঠিক সেই ওভারেই ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। পরে ড্রেসিং রুমে তাঁকে ‘সার্ভিক্যাল কলার’ ও ‘আইস প্যাক’ দেওয়া হয়।
ম্যাচের শেষে বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল জানান, শোয়ার ভঙ্গিমার ভুলেই এমন সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর কথায়, “শুভমান খুব ফিট এবং নিজের শরীরের যত্ন নেয়। শারীরিক অতিরিক্ত ধকলের সমস্যা নয়, হয়তো ঘুমের সময় ভঙ্গি ঠিক না থাকায় ঘাড় শক্ত হয়ে গেছে।”
চোট কতটা গুরুতর, শুভমানকে বসে জেতে হলে কী পদক্ষেপ করতে হতে পারে, তা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে উঠেছে ভারতীয় দলের জন্য।