সময়ের নিয়মেই বদলায় দল। বয়স, ফর্ম, ইনজুরি—সব মিলিয়ে একটা চক্র কাজ করে। কিন্তু ইডেনের আবেগকে ঘিরে এত বড় পরিবর্তন? সেটাই হয়তো বেশি নাটকীয়।
.jpeg.webp)
বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬ বছর অনেকটা সময়৷ ইডেনের প্রতিটি ঘাস এর মর্ম বোঝে। এর আগে শেষ টেস্ট খেলা হয়েছিল যখন, মাঠে নেমেছিলেন বিরাট (Virat Kohli)৷ ছুঁয়েছিলেন মাইলস্টোন৷ বল হাতে ঘূর্ণি দেখাতে মুখিয়ে অশ্বিন (Ravichandran Ashwin)৷ রোহিত (Rohit Sharma), তিনিও আস্তিন গুটিয়ে ফ্লাডলাইটের আলোয় বোলারদের শাসনে উদগ্রীব!
বিগত ৬ বছরে বদলে গিয়েছে অনেক কিছু। কাল ফের মাঠে নামবে দুই দল। টেস্ট খেলতে। একদিকে টিম ইন্ডিয়া (Team India)। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের (Bangladesh) মতো দুর্বল নয়৷ বেশ সবল। উপরন্তু আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে ভারত ব্যাকফুটে। ঘরের মাঠে শেষ সিরিজ ছিল নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে। হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল গম্ভীর বাহিনী (Gautam Gambhir’s Team)। মসনদে বসেই কোচের গর্দান নেওয়ার জিগির উঠেছিল। আপাতত বিরোধীদের তর্জন খানিক থিতিয়েছে। কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়ার নিপাট আধিপত্যের স্ট্যাম্প এখনও পড়েনি৷ এখনও টলমলে দল। সিম না স্যুইং—কোনটা হতে পারে অস্ত্র, সেই নিয়েই দ্বিধান্বিত শিবির।
ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) টেস্ট মানেই অন্য রকম এক আবহ। ১৯৪৮ সালের পর এত লম্বা ব্যবধানে টেস্ট ফেরেনি কলকাতার ময়দানে—এই তথ্যই বুঝিয়ে দেয়, ৬ বছরের বিরতি কতটা ব্যতিক্রমী। ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক ডে–নাইট ম্যাচের (Pink-ball Test) পর থেকে এই ক্রিকেট–ক্যাথেড্রাল ছিল অধীর অপেক্ষায়। আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই নিঃশব্দে বদলে গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের পুরো কাঠামো!
২০১৯ সালের সেই দলে কারা ছিলেন? রোহিত, মায়াঙ্ক (Mayank Agarwal), পূজারা (Cheteshwar Pujara), বিরাট, রাহানে (Ajinkya Rahane)—অভিজ্ঞ ব্যাটিং কোর। পেছনে উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহা (Wriddhiman Saha)। অলরাউন্ডার জাদেজা–অশ্বিন (Ravindra Jadeja–Ravichandran Ashwin)। আর তিন পেসার—ইশান্ত (Ishant Sharma), সামি (Mohammed Shami), উমেশ (Umesh Yadav)। ভয়ংকর, ভারসাম্যপূর্ণ, নিখুঁত এক টেস্ট দল। সেই ম্যাচে ২০ উইকেটের ১৯টিই তুলেছিল পেস আক্রমণ। অসহায় আত্মসমর্পণ ছাড়া বাংলাদেশের কোনও উপায়ও ছিল না।
৬ বছর পর? সেই দলের ১০ জন এখন আর নেই—কেউ অবসর নিয়েছেন, কেউ বাদ পড়েছেন, কেউ চোটে বা ফর্মের জেরে দলের বাইরে। বিরাট? টেস্ট ফরম্যাটকে বিদায় জানিয়েছেন। রোহিত? একইভাবে লাল বলের ক্রিকেটকে অলবিদা জানিয়েছেন। পূজারা, রাহানে, ইশান্ত—সবাই অতীত। সামি সাইডলাইনে। অশ্বিনও নিয়েছেন অবসর।
শুধু একজন মানুষ রয়ে গিয়েছেন। রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja)।
২০১৯ থেকে ২০২৫—এই লম্বা পথচলার একমাত্র সেতু, একমাত্র সক্রিয় সদস্য। এই ইডেনেরই সবুজ গালিচায় সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি বয়ে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে পুরোনো যুগের শেষ প্রতিনিধি। যদিও ন্যায্যতার খাতিরে বলতে হয়—ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant), শুভমান গিল (Shubman Gill) ও কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) ২০১৯ সালের স্কোয়াডে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু প্রথম একাদশে জায়গা জোটেনি। বসেছিলেন বেঞ্চে। যে কারণে ‘লাস্ট–ম্যান–স্ট্যান্ডিং’ তকমা একমাত্র জাদেজার প্রাপ্য।
কিন্তু এই বদল কি স্বাভাবিক? সময়ের নিয়মেই বদলায় দল। বয়স, ফর্ম, ইনজুরি—সব মিলিয়ে একটা চক্র কাজ করে। কিন্তু ইডেনের আবেগকে ঘিরে এত বড় পরিবর্তন? সেটাই হয়তো বেশি নাটকীয়।
আর এই নাটকীয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন (World Test Champions)। আত্মবিশ্বাসে টগবগ। আর ভারত? নিজেদের ঘরের মাঠে অদম্য জেদ আর আগের মতো তীব্র নয়। নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশের ক্ষত তাজা। তার উপরেই নতুন সিরিজের চাপ।
ইডেনে পিচ কেমন হবে? ব্যাটারদের বাড়তি সুবিধা নাকি স্পিনারদের (Spinners) রমরমা—কোনটা দেখা যাবে? নাকি রিভার্স সুইং (Reverse Swing)? ভারতীয় শিবিরেও পরিষ্কার উত্তর নেই। তবে এটাই সত্যি—এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি ম্যাচে দাপট দেখানো শুরু করে, ভারতকে টলানো খুব একটা কঠিন কিছু নয়।