গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষপর্ব নিয়ে কোনও কিছুই আগে থেকে বলা যায় না। ইতিহাস গড়ার আরও একটা সুযোগ নিয়ে কোর্টে নামবেন জোকোভিচ। কিন্তু ফ্রিটজও যে আমেরিকান সমর্থকদের সামনে জয় ছিনিয়ে নিতে প্রাণান্ত পরিশ্রম করবেন, তাতে সন্দেহ নেই।

নোভাক জোকোভিচ
শেষ আপডেট: 1 September 2025 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স খাতায়-কলমে ৩৮। হালকা চোট–আঘাতের ছাপ কোর্টের মুভমেন্টে স্পষ্ট বোঝা যায়। তবু একের পর এক গ্র্যান্ডস্ল্যামে স্রোতের প্রতিকূলে হেঁটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন নোভাক জোকোভিচ (Novak Djokovic)। ইউএস ওপেনের (US Open) শেষ ষোলোয় ইয়ান-লেনার্ড স্ট্রুফকে (Jan-Lennard Struff) উড়িয়ে দিয়ে রেকর্ডবুকে আরও একটি অধ্যায় লিখে রাখলেন সার্বিয়ান মহাতারকা। স্ট্রেট সেটে জয়—৬-৩, ৬-৩, ৬-২। সময় লেগেছে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট।
এই জয়ের সুবাদে জোকোভিচ টানা ১৪তম বার জায়গা করে নিলেন ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে। ওপেন এরা-য় ফেডেরার ও আন্দ্রে আগাসিকে টপকেছেন। এখন তাঁর সামনে রয়েছেন কেবল কিংবদন্তি জিমি কনার্স, ১৭ বার কোয়ার্টারে ওঠার কীর্তি নিয়ে। আরও একটা রেকর্ড—জোকোভিচ এখন সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড়, যিনি একই মরশুমে চারটে গ্র্যান্ড স্ল্যামে শেষ আটে পৌঁছলেন।
এদিন ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল জোকারের। সার্ভিসে অপ্রতিরোধ্য। ১২টি এস (Aces) মেরেছেন, যা স্ট্রুফের প্রায় দ্বিগুণ। ফার্স্ট সার্ভে পয়েন্ট জিতেছেন প্রায় ৮০ শতাংশ। প্রতিপক্ষকে আক্রমণের কোনও খোলা জায়গাই দেননি। অথচ স্ট্রুফ কিন্তু এই টুর্নামেন্টে হোলগার রুনে ও ফ্রান্সেস টিয়াফোয়ের মতো বড় নামকে হারিয়ে রীতিমতো চর্চায়!
ম্যাচ চলাকালীন দু’বার ফিজিও ডাকতে হয়েছে জোকোভিচকে। ঘাড় ও কাঁধে অস্বস্তি ছিল। যদিও তার প্রভাব পড়তে দেননি। ম্যাচ শেষে নিজেই বললেন, ‘ভাল সার্ভ করা গেলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়। শেষ ম্যাচেও আমি দারুণ সার্ভ করেছি। আজও সেটা কাজে দিয়েছে। আমি তো পরিসংখ্যান দেখলাম—এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি এস মারা খেলোয়াড়কে আমি সার্ভের নিরিখে হারিয়েছি। এটাও বিশেষ কৃতিত্ব। সার্ভিস ভাল হলে কোর্টে বাড়তি খাটুনি দিতে হয় না!’ ম্যাচ জিতে গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশে জোকোভিচের বার্তা, ‘আমি জানি না এখানে আর কত রাত খেলতে নামব। তাই প্রতিটি ম্যাচই এখন আমার কাছে স্পেশ্যাল। তোমাদের ধন্যবাদ, এতগুলো বছর ধরে পাশে থাকার জন্য!’
দিনকয়েক আগেই ক্যামেরন নরির বিরুদ্ধে (Cameron Norrie) তৃতীয় রাউন্ডে ফার্স্ট সার্ভে জিতেছিলেন ৮৬ শতাংশ পয়েন্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু বয়স বাড়ছে, তাই ম্যাচ ছোট রাখার কৌশল হিসেবেই জোকোভিচ সার্ভিসকেই নতুন করে হাতিয়ার বানাচ্ছেন।
এখন সামনে চতুর্থ বাছাই টেলর ফ্রিটজ (Taylor Fritz)। আমেরিকান তারকার ফর্ম নজর কাড়ছে। টরন্টো মাস্টার্সে পৌঁছেছিলেন সেমিফাইনালে। এবারও ধাপে ধাপে ছন্দে ফিরেছেন। টমাস মাচাচকে চতুর্থ রাউন্ডে উড়িয়ে কোয়ার্টারে উঠেছেন। তবে হিসেব বলছে, জোকোভিচের সামনে দাঁড়ানো কঠিন। হেড-টু-হেড রেকর্ডে ফ্রিটজ এখনও জয়ের স্বাদ পাননি। ১০-০ ব্যবধানে একেপেশে কায়দায় এগিয়ে সার্বিয়ান তারকা।
তবে গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষপর্ব নিয়ে কোনও কিছুই আগে থেকে বলা যায় না। ইতিহাস গড়ার আরও একটা সুযোগ নিয়ে কোর্টে নামবেন জোকোভিচ। কিন্তু ফ্রিটজও যে আমেরিকান সমর্থকদের সামনে জয় ছিনিয়ে নিতে প্রাণান্ত পরিশ্রম করবেন, তাতে সন্দেহ নেই। ফল যা-ই হোক, ফ্লাশিং মেডো কিন্তু আরও একটি হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথের সাক্ষী থাকার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।