বয়স ৩৮। পা আরেকটু ভারী, মুভমেন্ট শ্লথ, শরীরও সায় দিচ্ছে না আগের মতো। তবু জয়ের খিদে এতটুকু ফিকে হয়নি।

নোভাক জোকোভিচ
শেষ আপডেট: 11 July 2025 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোভাক জোকোভিচের সামনে টার্গেটটা খুব স্পষ্ট। ইয়ানিক সিনার আর কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে উইম্বলডন জেতা। বয়স ৩৮। পা আরেকটু ভারী, মুভমেন্ট শ্লথ, শরীরও সায় দিচ্ছে না আগের মতো। তবু জয়ের খিদে এতটুকু ফিকে হয়নি।
দু’দিন আগে ফ্ল্যাবিও কোবোল্লিকে হারিয়ে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে পৌঁছলেন। পুরুষদের মধ্যে এ নিয়ে রেকর্ড ১৪ বার সেমিফাইনালে। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলনে বলে দিলেন, ‘সিনার আর আলকারাজ—এদের হারাতেই হবে, নইলে এগোনো যাবে না।’
একটু তাড়াহুড়ো করেই যেন আলকারাজকে ফাইনালে বসিয়ে দিলেন। এখনও শেষ চারের লড়াই বাকি। সেমিফাইনালে আলকারাজ খেলবেন টেলর ফ্রিটজের বিরুদ্ধে। যিনি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী পাঁচ নম্বর বাছাই। ঘাসের কোর্টে আত্মবিশ্বাসী। আলকারাজ ফেভারিট ঠিকই। তবু ম্যাচের ফল তো নিশ্চিত নয়। অথচ জোকোভিচের টার্গেট এতটাই স্থির, তিনি সিনার আর আলকারেজ ছাড়া আর কিছু ভাবতে নারাজ।
যতই আবেগের বুদ্বুদ উঠুক না কেন, সার্ব তারকা যে এখন আর টেনিস দুনিয়ার একচ্ছত্র শাসক নন, এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। এককালে তিনিই ছিলেন অন্তিম লক্ষ্য—যাকে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হারাতে চাইত, অনুজরা অনুসরণ করত। সময় বদলেছে। রাজপাটের হস্তান্তর ইতিহাস আর সময়ের শর্তে মেনে নিয়েছেন জোকোভিচ। তাই বদলাতে হয়েছে মানসিকতা। সিনার আর আলকারাজ—দু’জনেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন টেনিসের দুনিয়া। এই সত্য ঘুলিয়ে না দিয়ে ‘জোকার’ বলছেন, ‘আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এদের দু’জনকে একই টুর্নামেন্টে হারানো।’
লড়াইয়ের আগে তিনি হার মানতে নারাজ। কারণ ইতিহাস। কারণ পরিসংখ্যান। কারণ সাম্প্রতিক ফর্ম। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সেমিফাইনালে হারিয়েছেন আলকারাজকে। এরপর ফ্রেঞ্চ ওপেনে জভেরেভকে। কিন্তু সেমিফাইনালেই থেমে যেতে হয়েছে জানিক সিনারের সামনে—তাও স্ট্রেট সেটে। যদিও স্কোরলাইন যতটা একপাক্ষিক, খেলা কিন্তু ততটা একপেশে নয়। দ্বিতীয় সেটের মাঝামাঝি পর্যন্ত সিনারের সার্ভ ভাঙতেই সার্ভ রিটার্নে অন্যতম সেরা বলে পরিচিত নোভাক জোকোভিচ!
যদিও গোড়ায় সিনারের বিরুদ্ধে দারুণ রেকর্ড ছিল জোকারের। প্রথম পাঁচ ম্যাচে চারটিতেই জয়। তার মধ্যে দুটো উইম্বলডনে। কিন্তু ২০২৩-এ ডেভিস কাপ থেকে সব পালটে গেল। তিনটে ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে জোকোভিচকে হারালেন সিনার। তারপর থেকে টানা চার ম্যাচে জয়। স্বভাবতই, আগামিকাল মানসিকভাবে এগিয়ে শুরু করবেন তরুণ ইতালিয়ান।
টেকনিকের পাশপাশি চাপ সামলে বড় ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রেও এখন আগের চাইতে অনেক পরিণত ইয়ানিক সিনার। ফরাসি ওপেনে জোকোভিচের বিরুদ্ধে লড়াই সবচাইতে বড় প্রমাণ। আগে টানটান দ্বৈরথের শেষের দিকে জোকোভিচ জ্বলে উঠতেন। সৌজন্যে: স্নায়ুযুদ্ধে অসাধারণ নৈপুণ্য অর্জন। ইদানীং তাতে ভাটা পড়েছে। সুযোগ আসছে। কিন্তু আগের মতো তার সদ্ব্যবহার করছেন কই?
যদিও জোকোভিচ থেমে থাকতে নারাজ। বলছেন, ‘এই ম্যাচগুলোই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যায়ে সেরাদের মুখোমুখি হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই নিজেকে প্রমাণ করতে চাই!’ নিজেও জানেন, তাঁর সবচেয়ে বড় বাধা না সিনার, না আলকারাজ। আসল লড়াই নিজের শরী্রের বিরুদ্ধে। বলছেন, ‘ম্যাচ নিয়ে চিন্তা নেই। এখনও ছন্দে আছি। কিন্তু পাঁচ সেট ধরে সেই লেভেল বজায় রাখা—এই বয়সে খুব কঠিন!’ কোবোল্লির বিরুদ্ধে দুম করে কোর্টে পড়ে যান জোকার। তারপর অনুশীলন সেশন বাতিল করা হয়। চোট কতটা গুরুতর, সেটা অস্পষ্ট। কিন্তু উইম্বলডন ফাইনালের আগে এভাবে পড়ে যাওয়াটা স্বস্তিদায়ক নয়।
সেই জায়গায় সিনার অনেকটা নিশ্চিন্ত। গ্রিগর দিমিত্রভের বিরুদ্ধে দুই সেট পিছিয়ে পড়লেও প্রতিপক্ষ হঠাৎ চোট পেয়ে ম্যাচ ছেড়ে দেন। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে বেন শেল্টনকে স্ট্রেট সেটে হারান। নিজের সার্ভে একটি গেমও হাতছাড়া হয়নি। যার অর্থ খুব স্পষ্ট: আলকারাজ বা জোকোভিচ—যেই আসুন না কেন, তিনি তৈরি।
জোকোভিচের জন্য গ্র্যান্ডস্ল্যাম জেতার সবচেয়ে বড় সুযোগ এই উইম্বলডনই। ঘাসের কোর্ট কম ধকলের, র্যালি ছোট, পয়েন্ট দ্রুত শেষ হয়। সবই জোকোভিচের পছন্দের। হয়তো এই কারণেই তিনি বরাবর বলে এসেছেন, ঘাসের কোর্ট তাঁর প্রিয়তম। এখানেই খেতাবজয়ের সেরা সম্ভাবনা।
এর জন্য প্রয়োজন একজোড়া মারকাটারি পারফরম্যান্স। প্রথমে সিনার, তারপর (খুব সম্ভবত) আলকারাজ—দু’জনকেই হারাতে হবে। তবেই হাতে উঠবে ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম, ‘সর্বোচ্চ’ খেতাব জেতা ‘অবিসংবাদী’ টেনিস তারকার স্বীকৃতি।
‘যদি ফিট থাকি, তাহলে এখনও ওদের সঙ্গে টক্কর দেব। এমনকী হারাতেও পারি!’ বলা জোকোভিচ আপাতত এই ‘যদি’টাকেই মুছে দিতে চাইছেন।