৬–৭ (৬/৮), ৬–২, ৭–৫, ৬–৪। ম্যাচের গোড়ায় জোকোভিচের ওপর কীভাবে চাপ তৈরি করেছিলেন কোবোলি, তা স্কোরলাইনেই স্পষ্ট। টাইব্রেকারে প্রথম সেট হেরে কিছুটা অস্বস্তিতেই ছিলেন সার্ব তারকা। তবে দ্রুত ম্যাচের রাশ টেনে নেন।

জোকোভিচ ও সিনার
শেষ আপডেট: 10 July 2025 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের পথে আর মাত্র দু’ধাপ দূরে নোভাক জোকোভিচ। বুধবার উইম্বলডনের কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি হারালেন ইতালির ফ্ল্যাভিও কোবোলিকে। চার সেটের এই লড়াই জিতে পা রাখলেন অল ইংল্যান্ড ক্লাবের শেষ চারে—পুরুষদের মধ্যে রেকর্ড ১৪তম বার।
৬–৭ (৬/৮), ৬–২, ৭–৫, ৬–৪। ম্যাচের গোড়ায় জোকোভিচের ওপর কীভাবে চাপ তৈরি করেছিলেন কোবোলি, তা স্কোরলাইনেই স্পষ্ট। টাইব্রেকারে প্রথম সেট হেরে কিছুটা অস্বস্তিতেই ছিলেন সার্ব তারকা। তবে দ্রুত ম্যাচের রাশ টেনে নেন। জোকোভিচের বেসলাইনের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, স্ট্র্যাটেজিক অ্যাঙ্গেল বদল আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো কোবোলির প্রতিরোধ ভেঙে দেয়।
তৃতীয় সেটে ফের একবার টানটান লড়াইয়ের আমেজ ফিরে এলেও ৬–৫-এ এগিয়ে থাকা জোকোভিচ তা জিতে নেন। চতুর্থ সেটে ৫–৩-এর অ্যাডভান্টেজ নিয়ে সার্ভ করতে গিয়ে পিছলে পড়েন তিনি। কিছু সময় হাঁটু চেপে ধরে পড়ে থাকেন। মুহূর্তের জন্য থমকে যায় স্টেডিয়াম। রয়্যাল বক্সে উপস্থিত ব্রিটেনের রানি ক্যামিলার চোখেমুখেও তখন আশঙ্কার মেঘ। যদিও দুশ্চিন্তা দূর করে উঠে দাঁড়ান জোকোভিচ। জানান, চোট গুরুতর নয়। “ঘাসে খেললে এ ধরনের পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। ফিজিও দেখবে। দু’দিন সময় আছে।” ম্যাচশেষে সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন সার্বিয়ার তারকা। সেই সঙ্গে যোগ করেন, “এখনও উইম্বলডনের শেষ চারে খেলতে পারা আমার কাছে অনেক কিছু। সবাই আমার বয়স নিয়ে যেভাবে উৎসাহ দেখাচ্ছে, সেটা খুব স্পেশাল।”
এই জয়ের ফলে জোকোভিচ পৌঁছলেন ৫২তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনালে—পুরুষদের একক বিভাগে যা আজ পর্যন্ত কেউ ছুঁতে পারেননি। পাশাপাশি, রজার ফেডেরারের ১৩টি উইম্বলডন সেমিফাইনালের রেকর্ড ভেঙে নয়া নজির গড়লেন।
সেমিফাইনালে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ এই মুহূর্তে বিশ্বের পয়লা নম্বর ইয়ানিক সিনার। কোয়ার্টারে তিনি হারিয়েছেন মার্কিন দশ নম্বর বাছাই বেন শেলটনকে—৭–৬ (৭/২), ৬–৪, ৬–৪ ফলে। ম্যাচের আগে তাঁরও চোট নিয়ে আশঙ্কা ছিল। চতুর্থ রাউন্ড চলাকালীন কোর্টে গ্রিগর দিমিত্রভের বিরুদ্ধে পড়ে যান। ম্যাচে দুই সেটে পিছিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের চোটে ওয়াকওভার পেয়ে শেষমেশ সিনারই শেষ চারে ওঠেন।
কোয়ার্টারে অবশ্য সিনারের খেলায় টেকনিক্যালি কোনও দুর্বলতা দেখা যায়নি। ছিলেন স্বাভাবিক ছন্দে। স্লিভ পরা ডান হাতে সাবলীল টেনিস উপহার দেন। যা সেমিফাইনালে তাঁকে স্বস্তিতে রাখবে। জোকারের বিরুদ্ধে সিনারের সাম্প্রতিক রেকর্ডও দুর্দান্ত। গত চারবারের দ্বৈরথে সব ক’টিতেই শেষ হাসি হেসেছেন। সর্বশেষ জয়—২০২৫ সালের ফরাসি ওপেনের সেমিফাইনালে, স্ট্রেট সেটে।
পুরুষদের অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি কার্লোস আলকারাজ ও টেলর ফ্রিটজ। উইম্বলডনের গত দু’টি ফাইনালেই আলকারাজ হারিয়েছেন জোকোভিচকে। যদিও আপাতত এই তথ্যে কোনও খেলোয়াড়ই মন দেবেন বলে মনে হয় না।
অন্যদিকে মেয়েদের সিঙ্গলসে প্রথমবার উইম্বলডনের সেমিফাইনালে উঠলেন ইগা শিয়াওতেক। কোয়ার্টারে হারালেন রাশিয়ার লিউডমিলা সামসোনোভাকে—৬–২, ৭–৫। ফরাসি ওপেনে চারবারের চ্যাম্পিয়ন শিয়াওতেক এবার ঘাসেও দাপট দেখাচ্ছেন। ম্যাচশেষে বলেছেন, “গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না, আমি সেমিফাইনালে!”
সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডের বেলিন্ডা বেনচিচ। তিনি হারিয়েছেন রুশ বালিকা মিরা আন্দ্রেভাকে—৭–৬ (৭/৩), ৭–৬ (৭/২)। গত বছর এপ্রিলে মা হন বেনচিচ। কন্যা বেলার জন্মের পরে আবার ফিরে এসেছেন সার্কিটে এবং যে ফর্ম ছেড়ে গেছিলেন, সেখান থেকেই জার্নি শুরু করেছেন। মেয়েদের বিভাগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দ্বিতীয় বাছাই আরাইনা সাবালেঙ্কার সামনে আমেরিকার আমান্দা আনিসিমোভা।