সানিয়ার এই স্পষ্টবাদিতা শুধু তারকা-জীবনের চাপই নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা হওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। যেখানে ভেঙে পড়ার কথা জানানোটা সামাজিক লজ্জা নয়, এক ধরনের জরুরি থেরাপি!

সানিয়া মির্জা
শেষ আপডেট: 13 November 2025 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত মুখ খোলেন না সানিয়া মির্জা (Sania Mirza)। কিন্তু নতুন ইউটিউব টক শো ‘সার্ভিং ইট আপ উইথ সানিয়া’ (Serving It Up with Sania)-র প্রথম এপিসোডেই ঝেরে ফেললেন যাবতীয় দ্বিধা। অতিথির চেয়ারে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বলিউড পরিচালক–কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান (Farah Khan)। তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় সানিয়া তুলে ধরলেন নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্ত, ডিভোর্স (Divorce)-পরবর্তী মানসিক চাপে ডুবে যাওয়ার দিন, এমনকি এক ভয়ানক প্যানিক অ্যাটাকের (Panic Attack) অভিজ্ঞতাও।
সানিয়ার কথায়, ‘একটা দিন ছিল, আমার জীবনের সবচেয়ে অবসাদের মুহূর্তগুলোর একটা। সেটা ক্যামেরার সামনে বলতে চাই না। কিন্তু ওই সময় তুমি (ফারাহ) সেটে এসে দাঁড়ালে। আমাকে লাইভ শো-তে যেতে হত। আমি কাঁপছিলাম। তুমি যদি না থাকতে, ওই শো করতে পারতাম না। তুমি বলেছিলে—‘নো ম্যাটার হোয়াট, ইউ আর ডুইং দিস শো।’ সেই কথাটাই আমাকে দাঁড় করিয়েছিল!’
ফারাহও একমত। জানালেন, সানিয়ার অবস্থা দেখে তিনিও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। ‘আমার সেদিন শুট ছিল। কিন্তু সব ফেলে পায়জামা-চপ্পলে ছুটে যাই ওর কাছে। শুধু ওর পাশে থাকতে চেয়েছিলাম!’ বললেন তিনি।
আলোচনার টেবিলে বসে সহমর্মিতার সুরে ফারাহ আরও জানান, একা হাতে মা হয়ে ওঠার লড়াইটা সানিয়া যেভাবে সামলাচ্ছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বলেন, ‘কাজ (Work) করতে হবে, ছেলেকে সময় দিতে হবে—দুটোই তোমাকে করতে হয়। এটা ডাবল এফর্ট, আর তুমি সেটা দারুণভাবে ম্যানেজ করছ!’
২০১০ সালে শোয়েব মালিককে (Shoaib Malik) বিয়ে করেন সানিয়া। ২০১৮ সালে জন্ম হয় তাঁদের ছেলে ইজহানের (Izhaan)। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সানিয়ার পরিবার জানায়, শোয়েবের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে কয়েক মাস আগেই। পরে শোয়েব পাক অভিনেত্রী সানা জাভেদকে (Sana Javed) বিয়ে করার ঘোষণা করেন। ডিভোর্সের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ঝাঁকে ঝাঁকে ট্রোলিং (Trolling), ব্যক্তিগত মন্তব্য, রাজনৈতিক বিদ্বেষ—সব কিছুর মধ্যেই নিজেকে সামলেছেন সানিয়া।
বাইরের দুনিয়া সেই সংগ্রামের সাক্ষী নয়। যদিও নতুন শো-তে তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দিল, কোর্টে চ্যাম্পিয়ন (Champion) হওয়া কঠিন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ঝড় সামলে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং! আর সেই লড়াইয়ে যাঁরা পাশে থাকেন—ফারাহ খানের মতো বন্ধু—তাঁরাই আসলে এগিয়ে চলার রসদ জোগান। সানিয়ার এই স্পষ্টবাদিতা শুধু তারকা-জীবনের চাপই নয়, মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health) নিয়ে খোলামেলা হওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। যেখানে ভেঙে পড়ার কথা জানানোটা সামাজিক লজ্জা নয়, এক ধরনের জরুরি থেরাপি!