আর্জেন্তিনায় মিক্সড মার্শাল আর্ট (MMA) জিতে ইতিহাস গড়লেন ভারতের সংগ্রাম সিং। ফ্রান্সের ফ্লোরিয়ান কুদিয়েকে মাত্র ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে হারিয়ে বিদেশের মাটিতে জয়ের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করলেন তিনি। বিস্তারিত পড়ুন।

সংগ্রাম সিং
শেষ আপডেট: 6 April 2026 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়সে ১৬ বছরের ছোট প্রতিপক্ষ। লড়াই আর্জেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসে। গ্যালারি ভর্তি দর্শক, অধিকাংশই প্রতিযোগীর হয়ে গলা ফাটাচ্ছে। ভারতের সংগ্রাম সিং (Sangram Singh) কিন্তু এতে দমলেন না। উলটে চোখের নিমেষে, মাত্র ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে, ফ্রান্সের ফ্লোরিয়ান কুদিয়েকে (Florian Coudier) চিত করলেন। আর্জেন্তিনায় মিক্সড মার্শাল আর্ট (MMA) জেতা প্রথম ভারতীয় ফাইটার হিসেবে গড়লেন ইতিহাসও।
বুয়েনোস আইরেসের টাইগার স্পোর্টস ক্লাবে ঠাসা গ্যালারি। লড়াই শুরু হতেই সংগ্রাম আক্রমণাত্মক। প্রথম ঘুষিটা মাথায় না লেগে কাঁধে লাগে ফ্লোরিয়ানের। জবাবে ফ্রেঞ্চ যোদ্ধা পাঁজরে লাথি হাঁকান। পাল্টা জবাব দেন সংগ্রামও।
কিন্তু লাথালাথি নয়, ম্যাচের মোড় ঘুরল কুস্তির প্যাঁচে। ফ্লোরিয়ানের পা ধরে মাটিতে ফেলে দিলেন সংগ্রাম। লড়াইয়ের পরিভাষায় ‘লেগ অ্যাটাক’। কাজে এল। মাটিতে নামিয়ে প্রথমে ‘স্যান্ডি’ ভাঙার চেষ্টা, তারপর গলা চেপে ধরলেন। রেফারি তিনবার জিজ্ঞেস করলেন লড়াই থেকে ক্ষান্ত দেওয়ার কথা। শুরুতে অনড় ফ্লোরিয়ান। যদিও শেষমেশ হার মানলেন।
এদিন ৮৩ কেজি বিভাগে লড়েছেন সংগ্রাম। দুই কেজি ছাড় ছিল। সারাদিন কঠোর অনুশীলন, সামান্য জলপান—সেই প্রস্তুতির ফল মিলল রিংয়ের যুদ্ধে।
এটি সংগ্রামের তৃতীয় এমএমএ জয়। আগের দুটো এসেছে জর্জিয়ার তিবলিসি ও নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে। তিনটি দেশে তিন-তিনটি জয়—হ্যাটট্রিক! প্রথম সাফল্য এসেছিল পাকিস্তানি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে—মাত্র ৯০ সেকেন্ডে। দ্বিতীয়টি দ্বিতীয় রাউন্ডে। তৃতীয়টি—এই আর্জেন্তিনার মঞ্চে—এক মিনিট পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ডে।
কমনওয়েলথ হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন সংগ্রাম জয়ের পর বললেন, ‘জেতা বা হারা আমার কাছে বড় নয়। আমি হয় জিতি, নয়তো শিখি। আমি সবসময় বলি, আবেগের কোনও বয়স নেই। স্বপ্নটা বড় রাখলে সেটা পূরণও হয়। আর্জেন্তিনায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই সাফল্য… স্বপ্ন সত্যি হয়েছে!’ পাশাপাশি ২৫ বছর ধরে পাশে থাকা কোচ ভূপেশকে (Bhupesh) বিশেষ ধন্যবাদ দিলেন। সংগ্রামের কথায়, দিনরাত পরিশ্রম করে কোচ তাঁকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন।
মঞ্চ নতুন, গ্যালারি ছিল সম্পূর্ণ অচেনা মানুষে ভরা। কিন্তু তাঁদেরও অনেকে সংগ্রামের হয়ে চিৎকার করেছেন। যা দেখে চ্যাম্পিয়নও বিস্মিত। অবাক সুরে বললেন, ‘বুঝতে পারছিলাম না, পুরো স্টেডিয়াম কেন আমার জন্য গলা ফাটাচ্ছে!’