রাধিকার টেনিস অ্যাকাডেমি ছিল গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৭-এ। তাঁর এই প্রতিষ্ঠা, খ্যাতি এবং স্বাধীনতায় নাকি ঈর্ষান্বিত ছিলেন দীপক? কী বলছেন আত্মীয়রা।

বাঁ দিকে রাধিকা, মাঝে দীপকের প্রপার্টি ও ডান দিকে দীপক
শেষ আপডেট: 11 July 2025 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুরুগ্রামের সুশান্ত লোক এলাকায় টেনিস প্লেয়ার রাধিকা যাদব খুনের ঘটনায় একের পর এক নয়া তথ্য উঠে আসছে। গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশকে খেলোয়াড়ের বাবা জানিয়েছিলেন, প্রতিবেশীদের কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে গুলি করে খুন করেছেন তিনি। মেয়ের পয়সায় সংসার চলা নিয়ে সকলে টিটকিরি করত। কিন্তু তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই প্রৌঢ় প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা রোজগার করতেন। রয়েছে বিলাসবহুল ফার্ম হাউস, একাধিক ভাড়া বাড়ি, এমনকি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রও। নিজের এত আয় থাকা সত্ত্বেও মেয়ের রোজগার নিয়ে টিটকিরি করার কথা নয়, দীপক যাদবের বয়ান তাই ভাবাচ্ছে পুলিশকে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ রান্নাঘরে খাবার বানাচ্ছিলেন রাধিকা, সেসময় পেছন থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান দীপক, যার তিনটি লাগে রাধিকার পিঠে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এশিয়া মারিংগো হাসপাতালে, কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বেসরকারি এক সংবাদ মাধ্যমকে দীপকের গ্রামের এক পরিচিত বলেন, 'গুরুগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় দীপকের অনেক ভাড়া বাড়ি রয়েছে। ওঁর বিলাসবহুল ফার্ম হাউসও আছে। গ্রামের সবাই জানে উনি পয়সাওয়ালা।' লাইসেন্সপ্রাপ্ত .৩২ বোর রিভলভার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বলেন, 'সাধারণ কোনও মানুষ এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারেন না। এর জন্য প্রভাব এবং অর্থবলের প্রয়োজন।'
তদন্তে উঠে এসেছে, রাধিকার আর্থিক স্বাবলম্বন, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া রিল এবং এক মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন দীপক। পুলিশকে তিনি জানান, মেয়ের ইনস্টাগ্রাম কার্যকলাপ এবং টেনিস অ্যাকাডেমি চালানোর জন্য গ্রামের মানুষ যেভাবে তাঁকে তিরস্কার করত। তা তাঁর ভাল লাগেনি। তাঁকে বলা হত, মেয়ের টাকায় দিন কাটাচ্ছেন।
কিন্তু দীপকের এক আত্মীয় এই দাবি খারিজ করে বলেন, 'এত সম্পত্তি, এত রোজগারের পর গ্রামের কেউই বলবে না উনি মেয়ের টাকায় বাঁচছেন। দীপক খুব শিক্ষিত, মার্জিত মানুষ। মেয়েকে টেনিস শেখানোর জন্য পড়াশোনা পর্যন্ত ছেড়েছিলেন। মেয়েকে খুব ভালবাসতেন। টেনিস বা অ্যাকাডেমি নয়, এর পিছনে হয়তো অন্য কোনও পারিবারিক কারণ আছে।'
রাধিকার টেনিস অ্যাকাডেমি ছিল গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৭-এ। তাঁর এই প্রতিষ্ঠা, খ্যাতি এবং স্বাধীনতায় নাকি ঈর্ষান্বিত ছিলেন দীপক। একই বাড়ির উপরের তলায় থাকতেন রাধিকা এবং তাঁর বাবা-মা। নিচতলায় থাকতেন দীপকের ভাই কুলদীপ যাদব। তিনি এফআইআরে জানিয়েছেন, গুলির আওয়াজ পেয়ে ছুটে এসে দেখেন, রাধিকা মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
ড্রয়িংরুমের টেবিলেই পড়ে ছিল ওই রিভলভার। সঙ্গে সঙ্গে ছেলে পীযূষের সাহায্যে রাধিকাকে গাড়িতে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান কুলদীপ। চিকিৎসকেরা জানান, ততক্ষণে সব শেষ।
দীপক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। তাঁর রোজগার ও সম্পত্তি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।