লক্ষ্য পরিষ্কার—২০২৬ মরশুমে ধারাবাহিকতা। দক্ষিণ আফ্রিকার বাড়তি ট্রেনিং সেই টার্গেটের অংশ। নীরজের বার্তা স্পষ্ট—ফিরতে হলে প্রস্তুতিটা নিখুঁত হতে হবে।

নীরজ চোপড়া
শেষ আপডেট: 12 February 2026 11:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন মরশুমের আগে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চান না নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra)। এই আবহে খরচ জোগানোর আশ্বাস দিয়ে পাশে দাঁড়াল কেন্দ্র। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর ট্রেনিং ক্যাম্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় জানিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রকের মিশন অলিম্পিক সেল (Mission Olympic Cell)। এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই প্রি-সিজন ক্যাম্প।
কোচিং কাঠামোয় বড় বদল
জ্যাভলিন তারকা নীরজ (Neeraj Chopra) জানুয়ারিতে পচেফস্ট্রুমে অনুশীলন শুরু করেন। প্রথমে ৩২ দিনের ক্যাম্প অনুমোদিত হয়েছিল। এখন তিনি প্রিটোরিয়ায় প্রস্তুতি চালাবেন। মে মাসে দোহা ডায়মন্ড লিগে (Doha Diamond League) প্রতিযোগিতামূলক মরশুম আরম্ভ হওয়ার কথা।
প্রসঙ্গত, এ বার কোচিং দলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন নীরজ। চেক কিংবদন্তি জান জেলেজনির (Jan Zelezny) সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে তিনি আবার ফিরেছেন শৈশবের কোচ জয় চৌধুরির (Jai Chaudhary) কাছে। পানিপথে কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোয় যিনি নীরজকে গড়ে তুলেছিলেন, সেই তিনিই এখন প্রি-সিজন ব্লক তদারক করছেন। লক্ষ্য—টেকনিক্যাল সূক্ষ্মতা ঠিক করা, ফিটনেসের ঘাটতি মেটানো। পাশাপাশি রয়েছেন দীর্ঘদিনের ফিজিও ঈশান মারওয়া (Ishaan Marwaha)।
বিশ্বমানের সুবিধা, পূর্ণ আর্থিক সহায়তা
পচেফস্ট্রুম ট্রেনিং সেন্টার জ্যাভলিন থ্রোয়ারদের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা পরিকাঠামো হিসেবে পরিচিত। উন্নত জিম, স্পেশ্যাল ট্র্যাক, আবহাওয়া—সব মিলিয়ে এলিট প্রস্তুতির আদর্শ জায়গা। মিশন অলিম্পিক সেলের অনুমোদনে ট্রেনিং খরচ, জিম-গ্রাউন্ড ব্যবহার, স্থানীয় যাতায়াত, বিমানবন্দর ট্রান্সফার, দৈনিক ভাতা—সব অন্তর্ভুক্ত। ফলে নীরজকে আর অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না। মনোযোগ কেবল শরীর আর টেকনিকে।
ঘুরে দাঁড়ানোই আসল লক্ষ্য
গত মরশুমটা সহজ ছিল না। অ্যাডাক্টর চোট দীর্ঘ সময় ভুগিয়েছে। তবু দোহা ডায়মন্ড লিগে ৯০ মিটার ছুঁয়ে কেরিয়ারের অন্যতম বড় মুহূর্ত তৈরি করেছিলেন নীরজ। কিন্তু টোকিও বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে অষ্টম স্থান হতাশাজনক। আপাতত বিশ্রাম নিয়ে ফিটনেস ফেরানোই তাঁর অগ্রাধিকার। লক্ষ্য পরিষ্কার—২০২৬ মরশুমে ধারাবাহিকতা। দক্ষিণ আফ্রিকার বাড়তি ট্রেনিং সেই টার্গেটের অংশ। নীরজের বার্তা স্পষ্ট—ফিরতে হলে প্রস্তুতিটা নিখুঁত হতে হবে। আর সেই প্রস্তুতির মাটি এখন দক্ষিণ আফ্রিকা।