ইতিহাস বলছে, নীরজ চোপড়ার বিরুদ্ধে বাজি ধরা বিপজ্জনক। হয়তো তিনি আবার ফিরবেন—খুব তাড়াতাড়িই… আরও নিখুঁত থ্রো নিয়ে।

পুরনো কোচের সঙ্গে নীরজ
শেষ আপডেট: 12 January 2026 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খবরটা চমকে দিয়েছিল অনেককেই। এক বছরের মধ্যেই কোচ জ্যান ইয়েলিনির (Jan Železný) হাত ছাড়ছেন নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra)। সাধারণত অলিম্পিক চক্র ধরে গড়ে ওঠা এমন পার্টনারশিপ এত তাড়াতাড়ি ভাঙে না। তাই এক বছরের মধ্যে নীরজের কোচকে ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে টোকিওতে অষ্টম স্থানে শেষ করার পর থেকেই প্রশ্ন ঘুরছিল। সেই ধাক্কার মধ্যে কোচ বদল, স্পনসর জেএসডব্লিউ স্পোর্টস (JSW Sports) থেকে সরে গিয়ে নিজের উদ্যোগ ভেল ফাউন্ডেশন (Vel Foundation) শুরু—সব মিলিয়ে স্পষ্ট, নীরজ নিজের কেরিয়ারের রাশ আরও শক্ত করে হাতে নিতে চাইছেন।
সৌহার্দ্যের বিচ্ছেদ, তবু ইঙ্গিত স্পষ্ট
বিচ্ছেদের ঘোষণায় কোনও তিক্ততা নেই। নীরজ নিজেই জানিয়েছেন, ইয়েলিনির থেকে তিনি টেকনিক, রিদম, মুভমেন্ট নিয়ে অনেক কিছু শিখেছেন। নিয়মিত একসঙ্গে প্র্যাকটিস না করলেও বন্ধুত্ব অটুট থাকবে! অন্যদিকে, ইয়েলিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন—নীরজের প্রথম ৯০ মিটারের থ্রো তাঁর কোচিংয়েই এসেছে। টোকিওর আগে চোট না পেলে ফল আলাদা হতে পারত।
যদিও পরিসংখ্যান অন্য কথা বলছে। অলিম্পিক সোনার পর চার বছরে নীরজ ৮৫ মিটারের বেশি থ্রো করেছেন ৩৩ বার, তার নীচে থেকেছেন ৪০ বার। গত বছর ৯০ মিটার এসেছে ঠিকই, কিন্তু কমেছে ধারাবাহিকতা। টোকিওতেই ভেঙেছে তাঁর দীর্ঘদিনের ‘টপ-টু’ ফিনিশের রেকর্ড।
টেকনিক্যাল দ্বন্দ্ব আর মানসিক প্রশ্ন
নীরজ নিজেই স্বীকার করেন—পুরনো আর নতুন টেকনিক মিশে যাচ্ছিল। ব্লক ফেজে সমস্যা, বামদিকে ঝুঁকে পড়া—এই সব নিয়ে কাজ করতে হচ্ছিল। কিন্তু সমাধান পুরোপুরি মেলেনি। তার উপর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে পিঠের চোট পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
ক্রীড়া সাংবাদিক সন্দীপ মিশ্রর (Sundeep Misra) মতে, এটা কেবল টেকনিকের গল্প নয়… এলিট অ্যাথলিটের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যখন পোড়খাওয়া খেলোয়াড় নিজেকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে শেখে, তখন ব্যর্থতার পরে দায় নিজের বাইরে অন্য কোথাও খুঁজতে চায়—কোচ বদলের রাস্তা যার পরিচিত উদাহরণ।
সামনে কী? ‘ঝুঁকি’ না ‘রূপান্তর’?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কোচ বদলের পরিস্থিতি দানা বাঁধে টোকিওতে—নীরজের প্রাক্তন কোচ ক্লাউস বার্তোনিয়েট্জ (Klaus Bartonietz) সেখানে কাজ করছিলেন কেশর্ন ওয়ালকটের (Keshorn Walcott) সঙ্গে। সেই ওয়ালকটই শেষ পর্যন্ত সোনা জিতে নেন। নীরজ প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানালেও, এই পরাজয় হজম করা মানসিকভাবে সহজ ছিল না বলেই মনে করছেন অনেকে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ জানিয়েছেন, নিজেকে কোচ করা এই অবস্থায় কঠিন। আবার কারও মতে, নীরজ এখন এমন জায়গায়, যেখানে তিনি নিজেই নিজের সেরা বিচারক। ২০২৬ সালে হয়তো বেছে বেছে ডায়মন্ড লিগ, ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপের (World Athletics Ultimate Championships) মতো মঞ্চেই নামবেন। একই সঙ্গে, ভারতের জ্যাভেলিনে নতুন নাম উঠে আসছে—সচিন যাদব (Sachin Yadav) টোকিওতে চতুর্থ হয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, শূন্যতা থাকছে না। সব মিলিয়ে, জ়েলেজ়নির সঙ্গে বিচ্ছেদ নীরজের পতনের ইঙ্গিত নয়। বরং, রূপান্তরের সুযোগ। ইতিহাস বলছে, নীরজ চোপড়ার বিরুদ্ধে বাজি ধরা বিপজ্জনক। হয়তো তিনি আবার ফিরবেন—খুব তাড়াতাড়িই… আরও নিখুঁত থ্রো নিয়ে।