লিওনেল মেসি জানিয়েছেন কীভাবে ম্যাচের পরে রিল্যাক্স করেন। ওয়াইন আর স্প্রাইটের যুগলবন্দি মুহূর্ত ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

লিওনেল মেসি
শেষ আপডেট: 7 January 2026 20:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব ফুটবলে লিওনেল মেসি (Lionel Messi) মানেই নিখুঁত শৃঙ্খলা, চরম পেশাদারিত্ব আর অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা। মাঠে তিনি প্রায় যন্ত্রমানব। কিন্তু ময়দানের বাইরে? সেখানেই মাঝেসাঝে ধরা দেন একেবারে ‘আমাদের মতো’ মেসি। সম্প্রতি সেই আটপৌরে লিওকেই নতুন করে দেখল আর চিনল দুনিয়া—একেবারে অপ্রত্যাশিত স্বীকারোক্তিতে!
ক্যামেরার সামনে অকপট মেসি
আর্জেন্তিনার জনপ্রিয় ইউটিউব প্ল্যাটফর্মকে (LUZU TV) দেওয়া এক আড্ডায় মেসিকে প্রশ্ন করা হয়—ম্যাচ, ট্রেনিং কিংবা বড় কোনও সাফল্যের পর তিনি কীভাবে ‘রিল্যাক্স’ করেন? উত্তরটা শুনে ভর্তি স্টুডিও হেসে ওঠে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও ওঠে অট্টহাসির হররা।
"Sprite":
Porque Lionel Messi contó que toma vino con Sprite ‘para que pegue rápido’ pic.twitter.com/Osmxtr0kBd— ¿Por qué es tendencia? (@porquetendencia) January 6, 2026
হালকা হাসি নিয়ে মেসির স্বীকারোক্তি, ‘আমি ওয়াইন পছন্দ করি। তবে বেশিরভাগ সময় ওয়াইনের সঙ্গে স্প্রাইট মিশিয়ে নিই। এতে তাড়াতাড়ি কাজ করে।’ কোনও ফ্যান্সি ককটেল নয়। না মালবেক, না আর্জেন্টিনার চিরাচরিত ফার্নেট-কোক। একেবারে ছিমছাম যুগলবন্দি—ওয়াইন আর স্প্রাইট!
এই বক্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল। আটবারের ব্যালন ডি’অর (Ballon d'Or) জয়ী ফুটবলারের এমন ‘আনফিল্টার্ড’ পছন্দ শুনে অনেকেই অবাক, অনেকেই পেলেন মজা।
শৃঙ্খলা আর ছুটির ফাঁকে এক চুমুক
বছরের বেশিরভাগ সময়ই মেসির জীবন কড়া নিয়মে বাঁধা। ডায়েট, ঘুম, রিকভারি—সবই পরিকল্পিত। তবু সেই কড়া শৃঙ্খলার মধ্যেও তিনি জানেন, মানসিক বিশ্রাম কতটা জরুরি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—এই সব আসরেই চলে আসে সেই ‘ওয়াইন-স্প্রাইট’ মুহূর্ত!
সাক্ষাৎকারে ছোট্ট স্বীকারোক্তি আসলে মেসির আরেকটা দিক সামনে আনে। তিনি শুধু কিংবদন্তি নন, একজন মানুষও। আর সেই মানবিক দিকটাই হয়তো তাঁকে এতটা আপন করে তোলে কোটি ভক্তের কাছে। মজার ব্যাপার, এই মন্তব্যের পর আর্জেন্তিনার (Argentina) ওয়াইন আর স্প্রাইট—দুটো ব্র্যান্ড নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। সামান্য কথা, অথচ মার্কেটিং দুনিয়ায় তোলপাড়—এটাই মেসির অপ্রতিরোধ্য প্রভাব।
সামনে শেষ বিশ্বকাপ, কিন্তু মেসি তো মেসিই
এই আড্ডার সময়টাই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স ৩৮। সামনে সম্ভবত তাঁর ষষ্ঠ এবং শেষ বিশ্বকাপ (FIFA World Cup)। মেসি নিজেও জানেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু লক্ষ্য একদম পরিষ্কার—২০২৬ সালে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আয়োজিত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে (Argentina) ফের শীর্ষে রাখার লড়াই।
এই হালকা, মজার স্বীকারোক্তির আড়ালেও রয়েছে চরম ফোকাস। ড্রিঙ্কের গল্প যতই ভাইরাল হোক, মেসির চোখ এখন একটাই মঞ্চে। বিশ্বকাপ। সেখানে আবার নিজেকে প্রমাণ করা। ওয়াইন আর স্প্রাইট হয়তো মুহূর্তে ‘লুজ কন্ট্রোল’ করে। কিন্তু মাঠে নামলেই মেসি—সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত, সবচেয়ে ধারালো, সবচেয়ে ভয়ংকর।