লিয়েন্ডার পেজের চ্যালেঞ্জ বেশ জোরদার! মুখে বলছেন, এটাই তাঁর ঘরে ফেরা। আর সেই ঘর থেকেই বাংলার টেনিসকে ফের নতুন গতি দিতে চান তিনি।

লিয়েন্ডার পেজ
শেষ আপডেট: 9 November 2025 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন ভূমিকায় লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes)। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (Bengal Tennis Association) সভাপতি হিসেবে। পূর্বতন প্রেসিডেন্ট ছিলেন হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় (Hironmoy Chatterjee)। বার্ষিক সাধারণ সভার (AGM) পরেই পেজের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর হয়।
১৮ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম (Grand Slam) জেতা এই ভারতীয় টেনিস কিংবদন্তি সংস্থার সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এবার সভাপতির আসনে বসে জানালেন, বাংলার টেনিসকে তিনি ‘নতুন উচ্চতায়’নিয়ে যেতে চান। লিয়েন্ডার বলেন, ‘আজকের দিনটা আমার জন্য ভীষণ আবেগের। আমি এখান থেকেই শুরু করেছিলাম—এই বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনেই। ছোটবেলায় অনূর্ধ্ব-১০, ১২, ১৪ বিভাগে খেলেছি। লিমকা মাস্টার্সেও অংশ নিয়েছি। আজ এই জায়গায় ফিরে আসাটা বিশেষ অনুভূতি!’
লিয়েন্ডারের বাবা ডা. ভেস পেজের মৃত্যু হয়েছে এ বছরের আগস্টে। সেই স্মৃতিও তুলে ধরলেন তিনি। বললেন, ‘আজ বাবার কথা খুব মনে পড়ছে। আমি যেখানেই খেলেছি, ওঁর হাত ধরেই শিখেছি!’
পেজ তাঁর দুই পুরনো সহকর্মী হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ও সুজয় ‘পাপু’ ঘোষকে (Sujoy Ghosh) বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেন। বলেন, ‘আমি আজ যেখানেই পৌঁছেছি, এই দু’জন না থাকলে সম্ভব হত না। ডেভিস কাপের (Davis Cup) বহু ম্যাচে ওঁরা আমার পাশে ছিলেন। সুইডেন, ক্রোয়েশিয়া, পাকিস্তান—যেখানে খেলেছি, প্রতিটি ম্যাচের পেছনে ওঁদের অবদান!’
৪৫টি ডাবলস জয়ে ডেভিস কাপের রেকর্ড এখনও লিয়েন্ডারের নামেই। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি, খেলার মাঠে যেমন শৃঙ্খলা মেনে চলেছেন, প্রশাসনেও তেমনই মনোযোগী থাকবেন। পেজের ভাষায়, ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম বা অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া এক জিনিস, কিন্তু প্রশাসনে কাজ করা আলাদা চ্যালেঞ্জ। এটা আমার প্রথম সার্ভ। তাই আমি নিজেকে শিক্ষার্থী হিসেবে ধরেই এগোব!’
এদিকে, বিদায়ী সভাপতি হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, আগামী বছরই কলকাতায় দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বসছে। জানুয়ারিতে ডিকেএসে (DKS)-আয়োজিত হবে আইটিএফ জুনিয়র্স (ITF Juniors), আর মার্চে ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের পুরুষদের টুর্নামেন্ট। যে কারণে লিয়েন্ডার পেজের চ্যালেঞ্জ বেশ জোরদার! মুখে বলছেন, এটাই তাঁর ঘরে ফেরা। আর সেই ঘর থেকেই বাংলার টেনিসকে ফের নতুন গতি দিতে চান তিনি।