এই ফলাফলের সুবাদে সিনার ছুঁয়ে ফেললেন ইতালির কিংবদন্তি নিকোলা পিয়েত্রাঞ্জেলির গ্র্যান্ড স্ল্যামে ৮৬টি ম্যাচ জেতার রেকর্ড। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও বড়—২০০৮ সালের পর প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেন খেতাব ধরে রাখা।

সিনার-মুসেত্তি
শেষ আপডেট: 4 September 2025 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ড স্ল্যাম কোয়ার্টারে ওঠা উদ্যমী প্রতিপক্ষ। লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে—কেউ আশা করেননি। কিন্তু অন্তত একটা-দুটো সেটে কড়া দ্বৈরথের অপেক্ষায় ছিল গ্যালারি। কিন্তু সে আশায় জল ঢাললেন ইয়ানিক সিনার। যে কারণে ফ্লাশিং মেডোর কোর্টে বুধবার দেখা গেল একপেশে দৃশ্য। সিনার (Jannik Sinner) সহজেই হারালেন স্বদেশি লরেঞ্জো মুসেত্তিকে (Lorenzo Musetti)। স্কোরলাইন ৬-১, ৬-৪, ৬-২।
এই ম্যাচটা ছিল গ্র্যান্ড স্ল্যামের ইতিহাসে প্রথম অল-ইতালিয়ান পুরুষদের কোয়ার্টার ফাইনাল। কিন্তু লড়াই যে একেবারেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ ভেবেছিলেন কি? শুরুতেই পাঁচ গেম টানা জিতে সিনার বুঝিয়ে দেন, এখানে তিনি একাই প্রভু—চ্যালেঞ্জারদের গুঁড়িয়ে দিতে নেমেছেন। মাত্র ২৭ মিনিটে প্রথম সেট পকেটে। দ্বিতীয় সেটে লড়াই কিছুটা জমে উঠেছিল, কিন্তু ৪-৪-এ মুসেত্তির ডাবল ফল্টে সুযোগ পান সিনার। লুফে নেন নিমেষে।
তৃতীয় সেটেও একই ছবি। মুসেত্তির সামনে ব্রেক-পয়েন্টের সুযোগ এসেছিল ছ’বার, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। বরং, সিনার বারবার ব্রেক করে ব্যবধান বাড়ান। শেষমেশ একটানা ২৬তম হার্ডকোর্ট মেজর জিতলেন বিশ্বটেনিসের পয়লা নম্বর তারকা।
জয় ছিনিয়ে নিয়ে সিনারের গলায় দৃঢ় বার্তা—‘ম্যাচের সময় বন্ধুত্বকে সরিয়ে রাখতে হয়। তবে হ্যান্ডশেকের পর সব আগের মতোই স্বাভাবিক। আজ খুবই শক্তপোক্ত খেলেছি, শুরুটাই ছিল দুর্দান্ত!’
এই ফলাফলের সুবাদে সিনার ছুঁয়ে ফেললেন ইতালির কিংবদন্তি নিকোলা পিয়েত্রাঞ্জেলির গ্র্যান্ড স্ল্যামে ৮৬টি ম্যাচ জেতার রেকর্ড। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও বড়—২০০৮ সালের পর প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেন খেতাব ধরে রাখা। গত এক বছরে জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডন। ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠেও হেরে যান কার্লোস আলকারাজের কাছে।
সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ কানাডার ফেলিক্স অজের-আলিয়াসিমে (Felix Auger-Aliassime)। হেড-টু-হেডে কানাডিয়ান এগিয়ে ২-১। তবে গত মাসেই সিনসিনাটিতে তাঁকে মাত্র দুই গেমে উড়িয়ে দিয়েছিলেন সিনার। সামনে তাই মহারণ। প্রশ্ন একটাই—ফ্লাশিং মেডো কি ফের সাক্ষী থাকবে সিনারের অপ্রতিরোধ্য দাপটের, নাকি আলিয়াসিমে লিখবেন নয়া চমকের গল্প?