Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

ভিনেশ থেকে জাহানারা: বদলাচ্ছে মুখ, তবু মেয়েদের খেলার মাঠে যৌন নিগ্রহের চক্র ভাঙছে না

জাহানারা আলমের কথা সামনে আসায় আলো আবার পড়েছে পুরনো অন্ধকার কোণে। প্রশ্ন হল—এই দীপ্তি কি চিরস্থায়ী হবে? নাকি আবার পরবর্তী প্রতিবাদ পর্যন্ত আঁধারই বয়ে যাবে?

ভিনেশ থেকে জাহানারা: বদলাচ্ছে মুখ, তবু মেয়েদের খেলার মাঠে যৌন নিগ্রহের চক্র ভাঙছে না

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 13 November 2025 16:26

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, কাইলি ম্যাকেঞ্জি, ল্যারি নাসার, রানা রেইডার, জন গেদার্ট… বদলে যাচ্ছে দেশ, ময়দান, পালটে যাচ্ছে নাম! কেউ জিমন্যাস্ট, কেউ কুস্তিগির, কেউ টেনিস তারকা। খেলোয়াড়ি পোশাক আলাদা। কিন্তু মিল একটাই: ক্ষমতার ছায়ায় তাঁদের শরীর ও সম্মানে হাত পড়েছে। কেউ ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তা, কেউ কোচ, কেউ সাপোর্ট স্টাফদের হাতে নিগৃহীত, লালসার শিকার। সময় গড়িয়েছে। ট্রমার ধাক্কা কাটিয়ে তক্ষুনি প্রতিবাদ জানাননি। পরে খোলস ভেঙে প্রকাশ্যে মেলে ধরেছেন যৌন হেনস্তার আদ্যোপান্ত। হাটে হাঁড়ি ভাঙায় কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদ হয়েছে, মামলা উঠেছে, আদালত রায় দিয়েছে। কেউ ন্যায়বিচার পেয়েছেন, কেউ এখনও পাননি। কিন্তু শোষণের পর্ব থামেনি।

এই তালিকার নবতম দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটার জাহানারা আলম। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে কীভাবে তিনি যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন, সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অকপটে বলেছেন। কারও ঘরে ডাক, কারও আকার-ইঙ্গিত, কারও প্রশ্ন—‘তোমার পিরিয়ড হয়েছে?’—এতদূর অবধি এসে পৌঁছেছে নিষ্পেশনের ভয়াবহতা! জাহানারার কথায় উঠে এসেছে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন নারী হিসেবে তাঁর মানসিক আঘাতের বয়ান। সেই সঙ্গে একরাশ ভয়—বললে দল থেকে নাম কাটা যাবে, সুযোগ কমবে, কেরিয়ার থমকে যাবে।

আসলে এই ধারাবাহিক নিগ্রহের শিকড় লুকিয়ে এক পুরনো, চেনা সূত্রে, যাকে বলা যেতে পারে: ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। কোচ বা নির্বাচক (coach), ফেডারেশনের কর্তা (federation), প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বছরের পর বছর অ্যাথলেটদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ক্যাম্পে জায়গা, বিদেশ সফর, জাতীয় দলে প্রবেশ, এমনকি চিকিৎসক বা ফিজিও কার কাছে যাবেন—সব কিছু তাঁদের অনুমতির ছায়ায়। যে মেয়ে ক্রীড়াজীবন শুরু করছে, তার সামনে স্বপ্নের পিছুপিছু দাঁড়িয়ে থাকে একরাশ ভয়—‘না বললে সুযোগ মিলবে তো?’

খেলার দুনিয়া এখানেই পুরুষতান্ত্রিকতার এক বিদঘুটে প্রতিচ্ছবি। বহু কোচ-অ্যাথলেট সম্পর্কের ভিত্তিই যেখানে সীমাহীন আস্থা, সেখানে কিছু সম্পর্ক ক্ষমতার টানাপড়েনে বাঁক নেয় এমন অন্ধকারে, যার পরিণতি মানসিক ভাঙন, আত্মবিশ্বাসের মৃত্যু, দীর্ঘমেয়াদি ট্রমা। আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, এই সম্পর্কের অসম ক্ষমতা যৌন হেনস্তার অন্যতম মূল উৎস। অ্যাথলেট ভরসা রাখেন কোচের উপর, আর সেই বিশ্বাসই ‘ব্যবহৃত হয়’ সবচেয়ে নিষ্ঠুরভাবে।

এর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে সংস্থাগত নীরবতা। অনেক ফেডারেশন বা বোর্ড নীতি তো বানায়—শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, ‘জিরো টলারেন্স’। কিন্তু অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত হয় কি? বাদ পড়ার ভয় ঝেড়ে ফেলার মতো পরিবেশ-ই বা কই? অনেক মহিলা ক্রীড়াবিদ জানিয়েছেন, তাঁরা অভিযোগ করলেও বোর্ড পদক্ষেপ নেয়নি। কোথাও ‘বিচারাধীন’, কোথাও ‘প্রমাণ পাওয়া যায়নি’বলে ফাইল বন্ধ। প্রশাসনিক নীরবতা, দীর্ঘসূত্রিতা, থমকে থাকা তদন্ত—এই সবই অভিযুক্তের আসনকে নিরাপদ করে, ভুক্তভোগীর ভয় বাড়ায়।

আরেকটা বড় কারণ সামাজিক চাপ। মহিলা অ্যাথলেটকে এখনও অনেক জায়গায় ‘অদ্ভুত নির্বাচন’হিসেবে দেখা হয়—কেন রাতের ক্যাম্প? কেন বিদেশ সফর? কেন হোটেলে থাকা? প্রশ্নে প্রশ্নে অনেক পরিবার মেয়েদের নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা দিতে পারে না। ফলে মেয়েরা দ্বিগুণ চাপ নিয়ে মাঠে নামে… প্রথমত মাঠের প্রতিযোগিতা আর দ্বিতীয়ত নিজের শরীরকে বাঁচানোর লড়াই। আর এই শূন্যতাকেই কাজে লাগায় ক্ষমতাবান প্রভুরা!

এত কিছুর পরেও প্রতিবাদ হয়। যেমন, ভারতের রেসলিং সমাজের তীব্র আন্দোলন। ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিকদের স্লোগানে বছরের পর বছরের যন্ত্রণাত রুদ্ধমুখ খুলে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে কাইলি ম্যাকেঞ্জি আদালতের শরণ নেন, প্রমাণ দেন, লড়াই করেন। জিমন্যাস্টিকস দুনিয়ায় ল্যারি নাসারের বিরুদ্ধে সকলে মুখ খুললে খেলার দুনিয়া কেঁপে ওঠে। জন গেদার্টকে অভিযুক্ত করা হলে সামনে আসে সহযোগিতা ও লুকোচুরি—অর্থাৎ, ব্যক্তির পাশাপাশি কাঠামোর দায়ও। রানা রেইডারের বিরুদ্ধে একাধিক অ্যাথলেট অভিযোগ আনলে স্পটলাইটে ক্ষমতার অপব্যবহারের আরও এক অধ্যায়। সমস্ত লড়াই মিলিয়ে-জুলিয়ে একটাই কথা বলে: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, এটা সামগ্রিক সিস্টেমের সমস্যা।

২০২৫-এ দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা তোলাই যায়—শোষণ বন্ধ হবে কীভাবে? কেউ বলবেন, কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যবস্থা ছাড়া এর প্রতিকার অসম্ভব। অভিযোগ উঠলেই ‘বাইসাইডেড’ বোর্ড পরীক্ষা নয়, স্বাধীন তদন্ত কমিটি চাই। কারও যুক্তি, ক্যাম্প-ট্রেনিং-হোটেল—সব জায়গায় মহিলা অ্যাথলেটের জন্য সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল প্রয়োজন। কিংবা, কোচ বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেই তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। অথবা, অ্যাথলেটদের মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট সিস্টেম—কোথায়, কীভাবে রিপোর্ট, কাকে বলবেন—এসব স্পষ্ট হওয়া জরুরি!

সবশেষে দরকার সামাজিক স্বীকৃতি—মেয়েরা খেলতে গেলে তাঁদের অধিকার আছে নিরাপত্তা চাওয়ার, পাওয়ার! তাঁরা শুধু জাতির গর্ব নন, তাঁরা মানুষ। তাঁদের শরীর, তাঁদের সম্মান, তাঁদের ক্রীড়াজীবন—এই তিনটিই সুরক্ষিত হওয়া উচিত! অভিযোগ করলেই সুযোগ যাবে—এই ভয় ভাঙতে হবে। এবং সংস্থা-ফেডারেশন-বোর্ডকে বোঝাতে হবে, তাদের প্রথম দায়িত্ব অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা… ক্ষমতা ধরে রাখা নয়!

জাহানারা আলমের কথা সামনে আসায় আলো আবার পড়েছে পুরনো অন্ধকার কোণে। প্রশ্ন হল—এই দীপ্তি কি চিরস্থায়ী হবে? নাকি আবার পরবর্তী প্রতিবাদ পর্যন্ত আঁধারই বয়ে যাবে? উত্তর নির্ভর করছে ‘সাহসে’র উপর। অ্যাথলেটরা তো নিজেদের হিম্মত বারবার দেখিয়েছেন—এবার পালা প্রতিষ্ঠানের!


```