নতুন আত্মজীবনীতে বেকার লিখেছেন জেল-জীবনের কাহিনি। যেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অনিবার্য সত্যি—১৭ বছর বয়সে বিশ্বজয়ের স্বাদ যতটা না আলো ছড়ায়, ততটাই ডেকে আনে অন্ধকার!

বরিস বেকার
শেষ আপডেট: 25 September 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স তখন সবে সতেরো। ১৯৮৫-তে কেভিন কারেনকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েন বরিস বেকার (Boris Becker)। ছেলেদের বিভাগে সর্বকনিষ্ঠ উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন! বিশ্বটেনিস দেখে নতুন তারকার উত্থান। যদিও আজ ৫৭ বছরে দাঁড়িয়ে জার্মান কিংবদন্তির স্পষ্ট স্বীকারোক্তি—এত তাড়াতাড়ি বড়সড় সাফল্য পাওয়াটা আখেরে জীবনের সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে উঠেছিল।
বেকারের কথায়, ‘তুমি যখন কোনও জায়গায় যাবে, কারও সঙ্গে কথা বলবে বা কিছু করবে—সবটাই বিশ্বজুড়ে খবর। অথচ তখনও নিজে কেবল নিজের জায়গা খুঁজে পেতে চাইছ। ১৭ বছরে উইম্বলডন জেতা আমার জীবনের রাস্তা পুরোপুরি পালটে দেয়!’
আসলে এই ‘বিস্ময় কিশোর’ তকমাই শেষ পর্যন্ত বরিসের গলায় দড়ি হয়ে ওঠে। বলেছেন, ‘যে কোনও প্রতিভাবান কিশোর যখন বিশ্বজোড়া চর্চার কেন্দ্রে চলে আসে, তখন সেখান থেকে বাঁচা দুঃসাধ্য। আমার পরের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি পদক্ষেপ ওই একটি সাফল্যের সঙ্গে তুলনা করা হত!’
টেনিসে ছ’টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা, নোভাক জোকোভিচকে কোচিং করানো—সবকিছুর আড়ালে ব্যক্তিগত জীবন টালমাটাল। অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ঋণের দায়, লন্ডনের জেলে কেটেছে আট মাস। সেখানেই বসে টিভিতে দেখেছেন সার্বিয়ান তারকার উইম্বলডন জয়। স্মৃতিচারণের সুরে বরিস বলেন, ‘আমার ভাই নোভাক ট্রফি তুলছে আর আমি তখন পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ কারাগারগুলোর একটিতে। বড্ড আবেগপ্রবণ মুহূর্ত!’
আজ ফিরে তাকিয়ে বেকারের উপলব্ধি অন্যরকম। তাঁর কথায়, ‘খুব বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলাম। অনেক টাকা। কেউ আমায় ‘না’ বলেনি। সবকিছু সম্ভব মনে হয়েছিল। কিন্তু এটাই সর্বনাশের রেসিপি। এখন বুঝি—অতীত পাল্টানো যায় না। শুধু বর্তমানেই বাঁচতে হয়, ভবিষ্যৎ গড়ে নিতে হয়!’
নতুন আত্মজীবনীতে বেকার লিখেছেন জেল-জীবনের কাহিনি। যেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অনিবার্য সত্যি—১৭ বছর বয়সে বিশ্বজয়ের স্বাদ যতটা না আলো ছড়ায়, ততটাই ডেকে আনে অন্ধকার!