ফেডেরারের আঙুল আসলে সেই টুর্নামেন্ট কর্তাদের দিকে, যাঁরা দর্শক টানার জন্য ‘হাই প্রোফাইল ফাইনালে'র লোভে খেলাটার স্বাভাবিক গতি বদলে দিচ্ছেন।

রজার ফেডেরার
শেষ আপডেট: 23 September 2025 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বটেনিস কি তবে ‘রিগিং’য়ের ফাঁদে? ম্যাচকে একপেশে করার জন্যই কি টুর্নামেন্ট কর্তারা কোর্টকে মন্থর করে রাখছেন? বাড়তি ফায়দা লুটছেন হাতেগোনা তারকা খেলোয়ায়াড়?
এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রজার ফেডেরারের (Roger Federer) সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে। লেভার কাপে (Laver Cup 2025) যোগ দিতে গিয়ে প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পষ্টভাষায় জানালেন—ইদানীংকালের টেনিসে যে ম্যাড়ম্যাড়ে কোর্টে খেলা হচ্ছে, সেটা নাকি কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz) আর ইয়ানিক সিনারের (Jannik Sinner) মতো খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্যই বানানো। অ্যান্ডি রডিকের (Andy Roddick) পডকাস্টে ফেডেরারের সোজাসাপ্টা অভিযোগ: ‘আজকাল টুর্নামেন্ট পরিচালকরা কোর্ট আর বলের গতি এতটাই একরকম করে ফেলেছেন, যে খেলোয়াড়দের খেলার ধরণ বদলানোর দরকারই হচ্ছে না। প্রতিটা টুর্নামেন্টে একই রকম অবস্থা। ফলে টেনিসে অনিশ্চয়তা নেই, বৈচিত্র্য নেই। কোর্ট দ্রুত হলে যেমন খেলা হত, মন্থর কোর্টে তেমন ম্যাচই দেখা যাচ্ছে না। এভাবে চললে টেনিস একঘেয়ে হয়ে যাবে।’
ফেডেরারের পরের বক্তব্য আরও মারাত্মক। তাঁর দাবি, আয়োজকদের উদ্দেশ্য আলকারাজ–সিনারের মতো তারকাদের সুরক্ষিত রাখা। তাঁদের ফাইনালে পৌঁছনো নিশ্চিত করা। কারণ মন্থর কোর্টে দুর্বল খেলোয়াড়দের পক্ষে বড় নামকে হারানো কার্যত অসম্ভব। ‘ফেড-এক্স’ আত্মবিশ্বাসের সুরে বলছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি কেন এটা করা হচ্ছে। মন্থর কোর্টে অপেক্ষাকৃত দুর্বল খেলোয়াড়কেই দুর্দান্ত সব শট খেলতে হবে। কিন্তু কোর্ট দ্রুত হলে কয়েকটা টাইমিং শটেই সে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটাই আসল পার্থক্য।’
তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই টেনিস মহলে শোরগোল! কারণ গত দু’বছর ধরে যাবতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম একচেটিয়াভাবে আলকারাজ–সিনারের দখলে। আটটি বড় টুর্নামেন্টের সমস্তটাই তাঁরা ভাগ করে নিয়েছেন। প্রত্যেকের ঝুলিতে চারটি করে খেতাব। সিনার এখনও ফ্রেঞ্চ ওপেন জিততে পারেননি, আলকারাজও মেলবোর্নের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে খালি হাতে ফিরেছেন—তবু বাকি সমিস্ত মঞ্চে তাঁদেরই দাদাগিরি। আর এখানেই ফেডেরারের ক্ষোভ—এভাবে চলতে থাকলে নতুন প্রতিভা উঠে আসবে কীভাবে?
তবে এর মধ্যেই লেভার কাপে চমক দেখিয়েছেন টেলর ফ্রিটজ (Taylor Fritz)। আলকারাজকে হারিয়ে দিয়েছেন স্ট্রেট সেটে (৬-৩, ৬-২)। তাঁর ওই জয় যদিও দেখিয়ে দিয়েছে, সব হিসেব কাগজে-কলমে মেলে না। দিনটা যদি প্রতিপক্ষের হয়, তবে ধীরগতির কোর্টও বড় তারকাকে বাঁচাতে ব্যর্থ!
যদিও বিতর্ক এখানেই থামছে না। ফেডেরারের আঙুল আসলে সেই টুর্নামেন্ট কর্তাদের দিকে, যাঁরা দর্শক টানার জন্য ‘হাই প্রোফাইল ফাইনালে'র লোভে খেলাটার স্বাভাবিক গতি বদলে দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা চাই আলকারাজ–সিনারের লড়াই বিভিন্ন ধরনের কোর্টে হোক। একবার একেবারে তডিৎগতির কোর্টে, আবার একবার মারাত্মক ধীর কোর্টে। তখন বোঝা যাবে কে কতটা খাপ খাইয়ে নিতে পারে। টেনিসের আসল মজা তো সেখানেই।’
আজকের টেনিস যে নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে, তা পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ২০১৮–১৯ মরশুমের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে, ছোট পাসিং র্যালি, দ্রুত পয়েন্ট ফুরোনোর বদলে খেলা আটকে যাচ্ছে লম্বা লম্বা র্যালিতে। কোর্টের একরকম গতি খেলোয়াড়দের খাপ খাওয়ানোর জায়গা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে দর্শকের কাছে ম্যাচগুলো অনেক বেশি অনুমেয় ও একঘেয়ে হয়ে উঠেছে!