দুইল্যা গ্রাম পঞ্চায়েতে স্থাপিত হল মোহনবাগানের ‘অমর একাদশ’-এর মূর্তি। উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ রায় ও বিশিষ্টজনেরা।

‘অমর একাদশ’
শেষ আপডেট: 28 July 2025 00:08
দেবাশীষ গুছাইত, হাওড়া
'লক্ষ মানুষ হাল ধরেছে
নৌকা ভাসমান,
তোমার আমার সবার বাঁচার ভাষা
বলো জয় মোহনবাগান'
খেলা নয়, এ এক বিপ্লবের ইতিহাস। এক দল বঙ্গসন্তান, খালি পায়ে জয় করেছিলেন সাম্রাজ্যবাদী অহংকার। হাওড়ায় সেই বীরদের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে যেন নতুন করে বাঙালি পেল তার পরিচয়। সবুজ-মেরুন আবেগে ভাসল হাওড়া। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়া ‘অমর একাদশ’-এর স্মৃতিতে এবার স্থায়ী ছাপ ফেলল দুইল্যা গ্রাম পঞ্চায়েত।
জেলার ইতিহাসে প্রথমবার, মোহনবাগানের অমর গৌরবগাথাকে সম্মান জানাতে স্থাপন করা হল তাঁদের মূর্তি—হাওড়ার আন্দুল রোডের ধারে দুইল্যার মোড় সংলগ্ন এলাকায়।
রবিবার, ২৭ জুলাই বিকেলে হাওড়ার দুইল্যায় স্থাপিত হল ‘অমর একাদশ’-এর মূর্তি। শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। সঙ্গে ছিলেন মোহনবাগান হকি বিভাগের সচিব শ্যামল মিত্র, ডোমজুরের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও একাধিক বিশিষ্টজন।

আন্দুল রোডের ধারে দুইল্যার মোড় সংলগ্ন এলাকায় মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠান ঘিরে উপচে পড়ল ভিড়। বহু মোহনবাগান সমর্থক সবুজ-মেরুন জার্সি পরে উপস্থিত হন। আবেগঘন মুহূর্তে ভরে ওঠে গোটা চত্বর। মূর্তির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে সেই ‘অমর একাদশ’-কে—যাঁরা পরাধীন ভারতে খালি পায়ে খেলেও ব্রিটিশদের পরাজিত করে গড়ে তুলেছিলেন এক ইতিহাস। তাঁদের সেই জয় শুধুই ক্রীড়াজগতের নয়, ছিল জাতীয়তাবাদের জয়গাথা—যা আজও গর্বিত করে প্রতিটি বাঙালিকে।
অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় হাওড়া জেলা পরিষদের সদস্য তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, “মোহনবাগান কোনও একটি দলের আবেগ নয়, এটি আমাদের সবার গর্ব। আজ এই মূর্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে আমরা কেবল অতীতকে স্মরণ করিনি, বরং এক গৌরবময় ঐতিহ্যের নব উদযাপন করলাম।”