নোবেল না পেলেও দুঃখ ভুলিয়ে দিল ফুটবল! ফিফা শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোন অবদানের জন্য এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন?

শেষ আপডেট: 5 December 2025 23:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেলেও এ বার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘শান্তির দূত’ রূপেই পুরস্কৃত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ড্র চলছিল, ঠিক সেই মঞ্চেই ফিফা (FIFA) ঘোষণা করল নবপ্রবর্তিত ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ এবং তার প্রথম প্রাপক ট্রাম্প।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টেই খবরটা প্রথম প্রকাশ পায়। দীর্ঘদিন ধরেই ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino)–র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের। ফুটবলের বাইরেও দুই জনকে একাধিক শীর্ষ অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে আমেরিকাকে বেছে নেওয়ার পরই এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিফা–র নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা। কিন্তু ইনফান্তিনো বহুবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফিফা–র প্রাক্তন গর্ভন্যান্স প্রধান মিগুয়েল মাদুরো (Miguel Maduro)। তাঁর মতে, এই অবস্থান ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা’ নীতির পরিপন্থী।
তবুও ফিফা নিজেদের যুক্তিতে অটল। তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপ সফলভাবে পরিচালনার জন্য আমেরিকার প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য। যেহেতু ১০৪ টি ম্যাচের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে, তাই নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, পরিবহন- সবকিছুতেই সরকারের সহযোগিতা জরুরি।
নতুন পুরস্কারটির উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করেছে সংস্থা। ‘ফুটবল ইউনাইটস দ্য ওয়ার্ল্ড-ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়া হবে তাঁদের, যাঁরা বৈশ্বিক শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। ঠিক কী কারণে ট্রাম্পকে নির্বাচন করা হল, তা অনুষ্ঠানের মঞ্চেই ব্যাখ্যা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ড্র অনুষ্ঠান ঘিরে শুরু হয়েছে অন্যান্য বিতর্ক। এর আগে ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারের বোর্ড ভেঙে নিজের সমর্থকদের বসানোর অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। পাশাপাশি, ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ফিফাকে না কি অস্বাভাবিক সুবিধা দিয়েছে প্রশাসন। যদিও কেনেডি সেন্টার জানিয়েছে, ফিফা ৫ মিলিয়ন ডলার স্পনসরশিপ এবং আলাদা করে ২.৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছে।
এদিকে বিশ্বকাপকে ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা রিপোর্ট চেয়েছে হোয়াইট হাউস। ১১টি আয়োজক শহরের জন্য আলাদা টাস্ক ফোর্স তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বহুবার দাবি করেছেন, ‘অসুরক্ষিত’ ডেমোক্র্যাট–শাসিত শহরগুলিতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। যদিও এখনও কোনও পরিবর্তন হয়নি, ফিফা বলেছে, শেষ সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রশাসনেরই।
সব মিলিয়ে, ফুটবলের মাধ্যমে শান্তির বার্তা, এটাই তুলে ধরতে চাইছে ফিফা। আর সেই মঞ্চের প্রথম মুখ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি হয়তো নোবেল পাননি, কিন্তু ফুটবলের ‘শান্তি’সম্মানে নিজের নাম জুড়ে নিলেন।