প্রজ্ঞানন্দকে আক্রমণ ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হবে। দিব্যারও সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি। প্রথম ক্যান্ডিডেটসে মানসিক চাপ সামলানো তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

প্রজ্ঞানন্দ ও বৈশালী
শেষ আপডেট: 2 April 2026 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাইপ্রাসের ক্যাপ সেন্ট জর্জেস রিসোর্টে চলছে ক্যান্ডিডেটস দাবা প্রতিযোগিতা (Chess Candidates 2026)। চার রাউন্ড শেষ (FIDE Candidates 2026)। বৃহস্পতিবার বিশ্রাম। আজকের দিনটা ভারতের তিন প্রতিনিধির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—আর প্রজ্ঞানন্দ, দিব্যা দেশমুখ ও বৈশালী রমেশবাবু… তিন দাবাড়ুই শুরুতে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে। এখনও আশা ফুরিয়ে যায়নি, তবে আগামী পথ বেশ কঠিন।
প্রজ্ঞানন্দের পতন কোথায়?
প্রথম রাউন্ডে অনীশ গিরিকে হারিয়ে দুরন্ত শুরু করেছিলেন প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa)। সিসিলিয়ান গ্র্যান্ড প্রি ওপেনিংয়ে গভীর প্রস্তুতির ছাপ স্পষ্ট। ওয়েই ই-এর বিরুদ্ধে ড্র—সেটাও সুচিন্তিত রণকৌশলের ফল।
কিন্তু সিন্দারভের বিরুদ্ধে সবকিছু বিগড়ে গেল, আচমকা । কুইন্স গ্যাম্বিট ডিক্লাইন্ড থেকে তৈরি হওয়া মিডগেমে একটা বেশি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ—c5-এ পন ঠেলা, তারপর কুইন b3-এ—আর সেখান থেকেই পজিশন ভেঙে পড়ল হুড়মুড়িয়ে। সিন্দারভ c2-এর বিশপ তুলে নিলেন। মাত্র সাত চালে গেম হাতছাড়া। শেষ রাউন্ডে ব্লুবাউমের বিরুদ্ধে দ্রুত ড্র—ধৈর্যের প্রমাণ, কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও যে হারালেন, সেটা পিঠোপিঠি উঠে আসছে।
মহিলা বিভাগে দিব্যা ও বৈশালী
মহিলা ক্যান্ডিডেটসে দিব্যা দেশমুখ ও বৈশালী (Vaishali Rameshbabu) দুজনেই সতর্কভাবে শুরু করেছিলেন। প্রথমজন আনা মুজিচুককে ড্র করলেন, বিবিসারার বিরুদ্ধেও একই ফল বৈশালীর। সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত এল তখন, যখন দুজন মুখোমুখি হলেন। বৈশালীর ভুল চাল—নাইট e4-এ। দিব্যা সুবিধা পেয়ে রুক সক্রিয় করলেন। কিন্তু কুইন g3-চালে যাবতীয় ফায়দা নষ্ট হল নিমেষে। বৈশালী রানিকে বিসর্জন দিয়ে ড্র বের করে নিলেন—অসাধারণ পাল্টা চাল! দিব্যার সমস্যা আরও প্রকট—গোরিয়াচকিনার বিরুদ্ধে লম্বা এন্ডগেমে পরাজয়, ঝু জিনারের বিরুদ্ধে সময়ের চাপে ভুল করে আবারও ব্যর্থ।
উল্লেখ্য, উজবেকিস্তানের জাভোখির সিন্দারভ (Javokhir Sindarov) এখন দেড় পয়েন্টে এগিয়ে। বাকি ১০ রাউন্ড। প্রজ্ঞানন্দকে আক্রমণ ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হবে। দিব্যারও সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি। প্রথম ক্যান্ডিডেটসে মানসিক চাপ সামলানো তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। ভারতের স্বপ্ন এখনও শেষ হয়নি, কিন্তু পথ ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।