ISL শুরুর আগে ইস্টবেঙ্গলের হোম গ্রাউন্ড বিতর্কে অবসান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিনা খরচে ম্যাচ খেলতে পারবে লাল-হলুদ।

ইস্টবেঙ্গল
শেষ আপডেট: 10 February 2026 22:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে সমস্ত টালবাহানা কাটিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)। তবে লিগ শুরুর আগে ইস্টবেঙ্গলের হোম গ্রাউন্ড নিয়ে তৈরি হয়েছিল ক্লাব ও ইনভেস্টর ইমামির মধ্যে টানাপোড়েন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ চাইছিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে হোম মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে, কিন্তু তুলনামূলক কম খরচের কথা মাথায় রেখে ইমামি বেছে নিয়েছিল কিশোরভারতী স্টেডিয়াম। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।
এই পরিস্থিতিতে বড় স্বস্তির খবর দিলেন ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে এবার ইস্টবেঙ্গল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই আইএসএলের হোম ম্যাচ খেলতে পারবে, তাও বিনা খরচে।
সাংবাদিক বৈঠকে দেবব্রত সরকার বলেন, “সমর্থকদের জন্য এটা সত্যিই সুখবর। আমরা সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম। উনি জানিয়েছেন, সল্টলেক স্টেডিয়াম আমরা নিখরচায় ব্যবহার করতে পারব এবং সেখানে ম্যাচ আয়োজন করা যাবে। সব ক্রীড়াপ্রেমীর কাছেই এটা আনন্দের খবর। সমর্থকদের কাছে অনুরোধ, দলে দলে এসে দলকে সমর্থন করুন।”
তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে ইমামির কাছেও আবেদন রাখা হয়েছে, যাতে যুবভারতীতেই ইস্টবেঙ্গলের হোম ম্যাচগুলো আয়োজন করা হয়।
এবারের আইএসএলে ম্যাচের সংখ্যা কমেছে। সেই সঙ্গে প্রায় সব ক্লাবই ফুটবলারদের বেতন কমিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ক্লাবগুলোর আয়ে। এই কারণেই এ মরসুমে খরচ কমিয়ে দল পরিচালনার দিকে নজর দিয়েছে ক্লাবগুলো। সেই যুক্তিতেই ইমামি তুলনামূলকভাবে কম খরচের কিশোরভারতী স্টেডিয়ামকে হোম গ্রাউন্ড হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। দেবব্রত সরকার আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কিশোরভারতীতে ম্যাচ হলে ক্লাব কর্তারা নিজেরাই খেলা দেখতে যাবেন না। তাঁর যুক্তি ছিল, কিশোরভারতীতে দর্শকাসন কম হওয়ায় সব সমর্থকের পক্ষে খেলা দেখা সম্ভব নয়।
এবার মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই জটিলতার অবসান ঘটল বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। যুবভারতীতে বিনা খরচে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে লাল-হলুদ শিবির, আর খুশি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাও।