প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় সপ্তাহের এই লড়াই ছিল সত্যিকারের হেভিওয়েট দ্বৈরথ।

শেষ আপডেট: 31 August 2025 23:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যানফিল্ডজুড়ে তখন টানটান উত্তেজনা। ঘড়ির কাঁটা ৮২ মিনিট পেরিয়ে গেছে। গোলের দেখা নেই। ঠিক সেই সময় রঙ্গমঞ্চে উঠে এলেন ডমিনিক সোবস্লাই (Dominik Szoboszlai)। ফ্রিকিক পেল লিভারপুল।
গোলপোস্ট থেকে প্রায় ২৫ গজ দূরে। সরসারি শট নিলেন হাঙ্গেরির মিডফিল্ডার। বল বাঁক খেল, গতি-সমেত! আর দুরন্ত ফ্রি-কিকে (Free-kick) জালে জড়াল ক্রসবার ঘেঁষে। আর্সেনাল গোলরক্ষক (Goalkeeper) ডেভিড রায়া (David Raya) ঝাঁপ দিলেন ঠিকই। কিন্তু আটকাতে পারলেন না। মুহূর্তে বদলে গেল গ্যলারির চেহারা, খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা এবং অবশ্যই লিগের বিন্যাস! এই একমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করল—লিভারপুল (Liverpool) ১-০ স্কোরলাইনে হারাল আর্সেনালকে (Arsenal)। উঠে এল টেবিলের শীর্ষে।
প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় সপ্তাহের এই লড়াই ছিল সত্যিকারের হেভিওয়েট দ্বৈরথ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনাল—দুই দলই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু রেফারির শেষ বাঁশি বাজা ইস্তক ব্যবধান গড়ে দেয় একটি মাত্র ফ্রিকিক!
ম্যাচের গোড়া থেকেই টানটান উত্তেজনা। বিরতির আগে কোনও দলই সেভাবে গোলের মুখ খুলতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিভারপুলকে ছন্দে ফেরাতে চেয়েছিলেন উইর্টজ আর গ্রাভেনবার্গ। তবে প্রথম জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করেন হুগো একিতিকে। উইর্টজের শটে রায়া বাঁচালেও রিবাউন্ডে জালে বল পাঠান। কিন্তু ভিএআরে ধরা পড়ে স্পষ্ট অফসাইড। ফলে গোল খারিজ!
লড়াইয়ে আর্সেনালও পিছিয়ে ছিল না। ডেকলান রাইস একের পর এক কর্নার তুলেছেন। ক্রিস্টিয়ান মাদুয়েকে উইং থেকে গতি এনেছেন। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ও মেরিনোকে সরিয়ে নামানো হয় মার্টিন ওডেগার্ড ও নতুন সই ইবেরেচি এজেকে। অভিষেক ম্যাচেই লিভারপুল ডিফেন্সে চাপ তৈরি করেন ইংরেজ মিডফিল্ডার! কিন্তু ভ্যান ডাইকের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্সের আগল ভাঙেনি।
পাল্টা আক্রমণ হানতে লিভারপুলও দেরি করেনি। ষাট মিনিটে নামানো হয় কার্টিস জোনসকে। শেষ দিকে মাঠে নামেন জো গোমেজ আর ফেদেরিকো কিয়েসা। সম্মিলিত চাপ দানা বাঁধলেও ভাগ্য খোলে ৮২ মিনিটে, দুরন্ত ফ্রি-কিকে!
আর্সেনাল ম্যাচে শারীরিক লড়াইয়েও পিছপা হয়নি। ভিক্টর গিয়কেরেস ও মার্টিন সুবিমেন্দি বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন। লিভারপুলের ইব্রাহিমা কোনাতে চোট পেয়ে নামতে বাধ্য হলে গ্যালারিতে দুশ্চিন্তা ছড়ায়। তবে ঠিক সেই সময়েই কিয়েসার মাঠে নামা আর সোবস্লাইয়ের গোল বদলে দেয় খেলার রং।
শেষ মুহূর্তে প্রাণপণ চেষ্টা করেও অ্যালিসনের দেয়াল ভাঙতে পারেনি গানার্সরা। গোলপোস্টের নিচে অটুট প্রচীরের মতোই প্রতিটি আক্রমণ ঠেকালেন লিভারপুল গোলকিপার। যদিও সবাইকে ছাপিয়ে অ্যানফিল্ডের নায়ক একজনই—ডমিনিক সোবস্লাই।